আগরতলা থেকে অসমে পাচারের ছক! উত্তর ত্রিপুরার কদমতলায় পুলিশের অভিযানে উদ্ধার ১৭ প্যাকেট শুকনো গাঁজা, আন্তঃরাজ্য পাচারচক্রের সন্ধানে তদন্ত শুরু
কদমতলা, ২৯ অক্টোবর: গাড়ির বডির ভিতরে বিশেষভাবে তৈরি গোপন চেম্বার। বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই, ভিতরে লুকিয়ে রয়েছে বিপুল পরিমাণ গাঁজা। কিন্তু পুলিশের তৎপরতায় শেষরক্ষা হল না পাচারকারীদের। উত্তর ত্রিপুরার কদমতলায় একটি পণ্যবাহী বোলেরো গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে আনুমানিক ৫০ লক্ষ টাকা মূল্যের শুকনো গাঁজা উদ্ধার করল পুলিশ। এই ঘটনায় গাড়ির চালককে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতের নাম কিষাণ ঘোষ (২৯)। তাঁর বাড়ি আগরতলার পূর্ব প্রতাপগড় এলাকার সুভাষনগরে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার, ২৮ অক্টোবর গভীর রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে কদমতলা থানার পুলিশ অভিযানে নামে। থানার সাব-ইনস্পেক্টর মনোজ পালের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঝেরঝেরি নাকা পয়েন্টে সন্দেহভাজন বোলেরো গাড়িটিকে আটক করে। এরপর গাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। গাড়ির ভিতরে মাদক লুকিয়ে রাখা হয়েছে বলে সন্দেহ হওয়ায় ঘটনাস্থলে পুলিশের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের পাশাপাশি ডেপুটি কালেক্টর ও ম্যাজিস্ট্রেট এবং ফরেনসিক দলের সদস্যদের ডেকে পাঠানো হয়।
পরবর্তীতে গাড়ির ভিতরে বিশেষভাবে তৈরি একটি গোপন চেম্বারের সন্ধান পান তদন্তকারীরা। সেই চেম্বার ভেঙে তল্লাশি চালাতেই বেরিয়ে আসে বিভিন্ন আকারের মোট ১৭টি প্যাকেটে রাখা শুকনো গাঁজা। উদ্ধার হওয়া গাঁজার অবৈধ বাজারমূল্য আনুমানিক ৫০ লক্ষ টাকা বলে জানিয়েছেন তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিক সাব-ইনস্পেক্টর মনোজ পাল।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত চালক কিষাণ ঘোষ পুলিশকে জানিয়েছেন বলে সূত্রের দাবি, আগরতলার খয়েরপুর বাইপাস সংলগ্ন এলাকা থেকে গাড়িতে গাঁজা বোঝাই করা হয়েছিল। সেখান থেকে ওই মাদক অসমে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
এই ঘটনায় এনডিপিএস (NDPS) আইনে মামলা রুজু করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া গাঁজার উৎস কোথায়, এই পাচারচক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং আন্তঃরাজ্য মাদক পাচারের পিছনে কোনও বড় চক্র কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।