সোনামুড়া ও বিশালগড়ে সরকারি জমি উদ্ধারে প্রশাসনের অভিযান, আশাবাড়ি বিওপি সংলগ্ন দোকান ও বাড়ির জমির বৈধ নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আগরতলা, ৫ নভেম্বর : সীমান্তবর্তী আশাবাড়ি এলাকায় বিএসএফের উপর হামলার ঘটনার পর থেকেই সীমান্ত নিরাপত্তা ও সরকারি জমি দখল সংক্রান্ত বিষয়গুলি নতুন করে প্রশাসনের নজরে এসেছে। এরই মধ্যে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় জমি চিহ্নিতকরণ এবং অবৈধ দখল উচ্ছেদের প্রক্রিয়া ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে সম্ভাব্য উচ্ছেদ ও পুশব্যাকের আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন অনেকে।
জেলাশাসকের বক্তব্য অনুযায়ী, সরকারি জমি অবৈধ দখলমুক্ত করার প্রক্রিয়া নতুন করে শুরু হয়নি। গত দুই মাস ধরেই প্রশাসনের উদ্যোগে এই অভিযান চলছে। ইতিমধ্যে সোনামুড়া মহকুমার ৪২টি স্থান এবং বিশালগড় মহকুমার একটি স্থানে সরকারি জমি উদ্ধার করা হয়েছে। যেসব ব্যক্তি বেআইনিভাবে সরকারি জমি দখল করে রেখেছেন, তাঁদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জমি খালি করার নির্দেশ দেওয়া হবে। নির্দেশ অমান্য করা হলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে প্রশাসন।
অন্যদিকে, আশাবাড়ি বিএসএফের বিওপি সংলগ্ন এলাকায় কয়েকটি দোকান ও বসতবাড়ির জমির মালিকানা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন করে চর্চা। স্থানীয়ভাবে ফয়জাল হক, আজাদ মিয়া ও মজুমদার নামে পরিচিত কয়েকটি দোকানের জমির কাগজপত্র যাচাই করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি কবির হোসেন, গিয়াস উদ্দিনসহ আরও কয়েকজনের বসতবাড়ির জমির বৈধ নথি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
তবে সংশ্লিষ্ট জমিগুলির মালিকানা সংক্রান্ত অভিযোগের সত্যতা এবং নথিপত্র যাচাইয়ের চূড়ান্ত ফলাফল এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে কারা বৈধভাবে জমির মালিক এবং কারা সরকারি জমি দখল করে রয়েছেন, তা প্রশাসনিক তদন্ত শেষ হলেই স্পষ্ট হবে।
এদিকে, দীর্ঘদিন ধরে ত্রিপুরার সীমান্তবর্তী এলাকায় অনুপ্রবেশ, সরকারি জমি দখল এবং বসতি গড়ে তোলার অভিযোগ বিভিন্ন মহল থেকে উঠে আসছে। এই ধরনের অভিযোগের সঙ্গে প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তা এবং রাজনৈতিক মদতের অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।
আসন্ন এসআইআর প্রক্রিয়ার প্রেক্ষাপটেও সীমান্তবর্তী এলাকার জমির মালিকানা, বসবাসের বৈধতা এবং সরকারি নথিপত্র যাচাইয়ের বিষয়টি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে বিশেষ গুরুত্ব পেতে শুরু করেছে। অনুপ্রবেশ রোধ এবং সীমান্ত সুরক্ষার প্রশ্নে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল দীর্ঘদিন ধরেই কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে আসছে।
সব মিলিয়ে, আশাবাড়িতে বিএসএফের উপর হামলার পর সীমান্তবর্তী এলাকার পরিস্থিতি এবং জমি সংক্রান্ত প্রশাসনিক তৎপরতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। এখন দেখার বিষয়, নথিপত্র যাচাইয়ের পর প্রশাসন কতটা কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে এবং অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়। একই সঙ্গে বৈধ নথির ভিত্তিতে বসবাসকারী সাধারণ মানুষের যাতে অযথা হয়রানি না হয়, সেদিকেও প্রশাসনের নজর রাখা অত্যন্ত জরুরি।