Home আগরতলাত্রিপুরার হস্ততাঁত শিল্পে নতুন দিশা, আইআইটি রুরকির সঙ্গে TRLM-এর তিন বছরের চুক্তি

ত্রিপুরার হস্ততাঁত শিল্পে নতুন দিশা, আইআইটি রুরকির সঙ্গে TRLM-এর তিন বছরের চুক্তি

by Debasish
0 comments 2 views

আগরতলা, ৫ অক্টোবর: ত্রিপুরার গ্রামীণ মহিলাদের হস্ততাঁত শিল্পকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও বাজারমুখী করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিল ত্রিপুরা রুরাল লাইভলিহুড মিশন (TRLM)। সোমবার হস্ততাঁত শিল্পের উন্নয়নে IIT Roorkee-র সঙ্গে তিন বছরের একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করেছে TRLM।

আরডি দপ্তরের সচিব অভিষেক সিংয়ের উপস্থিতিতে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন TRLM-এর সিইও তারিত কান্তি চাকমা এবং আইআইটি রুরকির ডিজাইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. বিভূতি রঞ্জন ভট্টাচার্য।

এই অংশীদারিত্বের মূল লক্ষ্য হল ত্রিপুরার ঐতিহ্যবাহী হস্ততাঁত শিল্পকে আধুনিক প্রযুক্তি, নতুন ডিজাইন, গবেষণা এবং সমসাময়িক ব্যবসায়িক পদ্ধতির সঙ্গে যুক্ত করে একটি টেকসই ও সম্প্রসারণযোগ্য জীবিকার ক্ষেত্রে পরিণত করা।

এই উদ্যোগের আওতায় উত্তর ত্রিপুরা, ঊনকোটি ও ধলাই জেলার স্বনির্ভর গোষ্ঠী বা SHG-এর সঙ্গে যুক্ত ৫০০ জন মহিলা তাঁতশিল্পী উপকৃত হবেন। তাঁদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, পণ্যের গুণমান উন্নয়ন এবং বৃহত্তর বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করার পাশাপাশি গোটা হস্ততাঁত উৎপাদন ও বিপণন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

প্রকল্পের অধীনে উন্নতমানের তাঁত, আধুনিক সরঞ্জাম এবং বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হবে। পাশাপাশি তাঁতশিল্পীদের ডিজাইন তৈরি, গুণমানের মানদণ্ড, নতুন ধরনের পণ্য তৈরি এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদন পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ ও জ্ঞান দেওয়া হবে।

হস্ততাঁত পণ্যের জন্য স্বতন্ত্র ব্র্যান্ড পরিচয় ও আধুনিক প্যাকেজিং তৈরির ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি মহিলা তাঁতিদের উদ্যোগপতি হিসেবে গড়ে তুলতে ব্যবসা শুরু, পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

ডিজিটাল যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তাঁতশিল্পীদের ডিজিটাল সাক্ষরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ই-কমার্স এবং আধুনিক বাজার ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগও নেওয়া হবে। এর ফলে SHG-ভিত্তিক মহিলা উদ্যোক্তারা ত্রিপুরার বাইরের বৃহত্তর ক্রেতা ও বাজারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ পাবেন।

TRLM ও আইআইটি রুরকির এই যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে একদিকে যেমন ত্রিপুরার ঐতিহ্যবাহী হস্ততাঁত শিল্পের সংরক্ষণ ও বিকাশ সম্ভব হবে, তেমনই অন্যদিকে আধুনিক প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক দক্ষতার মাধ্যমে মহিলা তাঁতিদের জন্য তৈরি হবে নতুন কর্মসংস্থান ও আয়ের সুযোগ। সংশ্লিষ্ট মহলের আশা, এই উদ্যোগ ত্রিপুরার হস্ততাঁত ক্ষেত্রকে আরও প্রতিযোগিতামূলক ও বাজারসক্ষম করে তুলবে।

You may also like

Leave a Comment