৫ অক্টোবর ভোট গণনা, ফলাফল ও পরবর্তী কমিটি গঠন নিয়ে বিধায়ক ও এমডিসিদের সঙ্গে পর্যালোচনা বৈঠক
আগরতলা, ৩ অক্টোবর। ত্রিপুরা উপজাতি এলাকা স্বশাসিত জেলা পরিষদের (টিটিএএডিসি) ভিলেজ কমিটি নির্বাচনে বড়সড় জয়ের প্রত্যাশা ব্যক্ত করল তিপ্রা মথা। ৫৮৭টি ভিলেজ কমিটির মধ্যে এককভাবে ৪৭০ থেকে ৫০০টি কমিটিতে জয়লাভের আশা করছে দল। এমনটাই দাবি করলেন মন্ত্রী তথা তিপ্রা মথার সাধারণ সম্পাদক ব্রিশকেতু দেববর্মা।
আগামী ৫ অক্টোবর ভিলেজ কমিটি নির্বাচনের ভোট গণনা। তার আগে শনিবার তিপ্রা মথার বিধায়ক ও এমডিসিদের নিয়ে এক পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে মূলত ভোট গণনার প্রস্তুতি, ফলাফল পরবর্তী পরিস্থিতি এবং নবনির্বাচিত ভিলেজ কমিটিগুলি গঠনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ব্রিশকেতু দেববর্মা বলেন, ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ভিলেজ কমিটি নির্বাচনের ভোট গণনা কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। টিটিএএডিসির চিফ এক্সিকিউটিভ মেম্বার, এক্সিকিউটিভ মেম্বার, বিধায়ক এবং সমস্ত এমডিসি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
তিনি জানান, দলের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন অনুযায়ী ৫৮৭টি ভিলেজ কমিটির মধ্যে ৮০ থেকে ৯৫ শতাংশ কমিটিতে জয়লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁর কথায়, তিপ্রা মথা এককভাবে ৪৭০ থেকে ৫০০টি ভিলেজ কমিটি দখলে রাখতে পারে বলে তাঁরা আশাবাদী।
ব্রিশকেতু দেববর্মা আরও দাবি করেন, ইতিমধ্যেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিপুল সংখ্যক আসনে জয় পেয়েছে তিপ্রা মথা। রাজ্য নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তিপ্রা মথার ১,৫৬১ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে, বিজেপির ৮১ জন প্রার্থীও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করেছেন। বাকি আসনগুলিতে গত ২৮ সেপ্টেম্বর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
এনডিএ জোটের সামগ্রিক ফলাফল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিপ্রা মথা একাই ৪৭০ থেকে ৫০০টি ভিলেজ কমিটি পেতে পারে। জোটসঙ্গীদের আসন যুক্ত হলে এই সংখ্যা ৫০০-র গণ্ডি ছাড়িয়ে যাবে বলে তাঁর দাবি। একই সঙ্গে ৫ অক্টোবর ভোট গণনা প্রক্রিয়া যাতে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়, তার জন্য নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
অন্যদিকে, অরিংবাড়ির সাম্প্রতিক ঘটনা প্রসঙ্গে ব্রিশকেতু দেববর্মা জানান, এই ঘটনায় ইতিমধ্যে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে ঘটনায় ব্যবহৃত বলে অভিযোগ ওঠা অস্ত্র ও যানবাহন উদ্ধারের দাবি এখনও জানিয়ে যাচ্ছে দল। এই বিষয়ে জেলা শাসক ও পুলিশ সুপারের কাছেও দাবি জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে দু’জন ধাকিজলা এলাকার বহিরাগত বলে শনাক্ত হয়েছেন বলেও দাবি করেন ব্রিশকেতু।
এসআর (স্ট্যাচুটরি রিপোর্ট) প্রস্তুতের দাবি প্রসঙ্গে তিনি জানান, এই বিষয়ে তিপ্রা মথার অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। সংগঠনের মধ্যে বৈঠক করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে। তবে এসআর তৈরি হোক, তা তাঁরা অবশ্যই চান বলে স্পষ্ট করেন তিনি।
বৈঠকে নবনির্বাচিত ভিলেজ কমিটিগুলির চেয়ারপার্সন ও ভাইস চেয়ারপার্সন নির্বাচন, সদস্যদের শপথগ্রহণ এবং পরবর্তী প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা হয়। গ্রামস্তরে মানুষের কল্যাণ ও উন্নয়নমূলক কাজ যাতে দ্রুত শুরু করা যায়, সেই লক্ষ্যে দায়িত্বশীল ও সুষ্ঠুভাবে কমিটি গঠনের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান ব্রিশকেতু দেববর্মা।
বৈঠকে টিটিএএডিসির সিইএম রুনিয়েল দেববর্মা, বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা, ইএম চন্দ্র কুমার জমাতিয়া-সহ দলের অন্যান্য নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন।