Home আগরতলাপ্রযুক্তির হাত ধরে বদলের পথে ত্রিপুরা, একসঙ্গে তিন কর্মসূচির সূচনা বৃহস্পতিবার

প্রযুক্তির হাত ধরে বদলের পথে ত্রিপুরা, একসঙ্গে তিন কর্মসূচির সূচনা বৃহস্পতিবার

by Debasish
0 comments 6 views

আগরতলা, ৩০ সেপ্টেম্বর: উদ্ভাবন থেকে ডিজিটাল শিক্ষা, আবার স্টার্টআপ থেকে তরুণ প্রজন্মের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা—একাধিক ক্ষেত্রে নতুন গতি আনতে বৃহস্পতিবার একসঙ্গে তিনটি কর্মসূচির সূচনা করতে চলেছে ত্রিপুরা সরকার। আগরতলার উইমেন্স কলেজে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ড.) মানিক সাহার উপস্থিতিতে ‘সেবা ফার্স্ট ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ ২০২৬’, ‘মুখ্যমন্ত্রী যুব যোগাযোগ যোজনা’-র ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের কার্যক্রম এবং ‘ডিজি-স্যাপনে ৩.০’ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার কথা।

সরকারের পরিকল্পনায় তিনটি কর্মসূচির লক্ষ্য আলাদা হলেও মূল সুর এক—তরুণদের প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করা এবং প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান তৈরি করা।

সরকারি সমস্যার সমাধানে এবার তরুণদের ভাবনা

‘সেবা সংকল্প অভিযান’-এর আওতায় শুরু হচ্ছে সেবা ফার্স্ট ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ ২০২৬। সরকারি দপ্তর ও জেলা প্রশাসনের দৈনন্দিন কাজের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলির প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান খুঁজবে যুবসমাজ, পড়ুয়া, গবেষক, স্টার্টআপ এবং উদ্ভাবকেরা।

ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, স্বশাসিত সংস্থা ও জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে একাধিক সমস্যা ও চ্যালেঞ্জের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রতিটি সংস্থা থেকে ২ থেকে ৫টি করে সমস্যা চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে সেগুলি ‘টি-রাইজ’ পোর্টালে প্রকাশ করা হবে।

প্রাথমিকভাবে ১৫ থেকে ২০টি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ বাছাই করার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, এই সমস্যাগুলির জন্য ১০০টিরও বেশি উদ্ভাবনী সমাধান পাওয়া। কার্যকর প্রস্তাবগুলিকে পরবর্তী পর্যায়ে ইনকিউবেশন, প্রযুক্তিগত সহায়তা, পরামর্শ এবং পরীক্ষামূলকভাবে বাস্তবায়নের সুযোগ দেওয়া হতে পারে।

স্মার্টফোনে ডিজিটাল শিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত

অন্যদিকে, উচ্চশিক্ষার সঙ্গে ডিজিটাল সংযোগ আরও শক্তিশালী করতে ফের সামনে আসছে মুখ্যমন্ত্রী যুব যোগাযোগ যোজনা (MYYJ)। ২০২০ সালে চালু হওয়া এই প্রকল্পে রাজ্যের সরকারি কলেজ, প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক স্তরের শেষ বর্ষের যোগ্য পড়ুয়াদের স্মার্টফোন কেনার জন্য এককালীন সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৯-২০ থেকে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত এই প্রকল্পে ৬৩,২৪৯ জন পড়ুয়া উপকৃত হয়েছেন। প্রকল্পে এখনও পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩১.৬২ কোটি টাকা।

২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শেষ বর্ষের স্নাতক পড়ুয়ারাও এবার এই সুবিধার আওতায় আসবেন। আগামী অর্থবর্ষগুলিতেও প্রকল্প চালিয়ে যাওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে এই প্রকল্পের জন্য ২২০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা জানানো হয়েছে।

উত্তর-পূর্বের স্টার্টআপে বড় সহায়তার পরিকল্পনা

প্রযুক্তিনির্ভর নতুন ব্যবসা ও স্টার্টআপকে গতি দিতে শুরু হচ্ছে ‘ডিজি-স্যাপনে ৩.০’। কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের সহযোগিতায় এবং AIC-SMU Technology Business Incubation Foundation-এর মাধ্যমে এই কর্মসূচি পরিচালিত হবে।

এর আগে ‘ডিজি-স্যাপনে ২.০’-এর মাধ্যমে উত্তর-পূর্বের আট রাজ্য থেকে ১০টি প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপকে বেছে নেওয়া হয়েছিল। প্রত্যেক স্টার্টআপকে ১০ লক্ষ টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়। এর মধ্যে ত্রিপুরার দুটি স্টার্টআপও ছিল।

এবার তৃতীয় সংস্করণে নির্বাচিত স্টার্টআপগুলির জন্য সর্বোচ্চ ২.৪ কোটি টাকা পর্যন্ত অনুদান, তিন মাসের গ্রোথ হ্যাক কর্মসূচি, শিল্প বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ এবং অ্যাক্সিলারেশন সহায়তার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং ডেমো ডেতে অংশ নেওয়ার সুযোগও থাকবে।

অনুষ্ঠানে তথ্যপ্রযুক্তি ও অর্থ দপ্তরের মন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়, তথ্যপ্রযুক্তি দপ্তরের সচিব ড. প্রশান্ত কুমার গোয়েল, মুখ্যমন্ত্রীর সচিব কিরণ গিত্তে, কেন্দ্রীয় ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব কৃষ্ণ কুমার সিংহ, তথ্যপ্রযুক্তি দপ্তরের পরিচালক জেয়া রাগুল গেশান বি এবং সিকিম মণিপাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. গোপালকৃষ্ণ প্রভুসহ একাধিক আধিকারিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তির উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই তিন কর্মসূচির মাধ্যমে একদিকে সরকারি পরিষেবায় উদ্ভাবনী প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, অন্যদিকে পড়ুয়াদের ডিজিটাল সুবিধা দেওয়া এবং উত্তর-পূর্বের স্টার্টআপগুলিকে বৃহত্তর বাজার ও বিনিয়োগের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করা হবে।

You may also like

Leave a Comment