মানিক সরকারের কনভয়ে হামলার অভিযোগেও সরব মানিক সাহা, বললেন—এ ধরনের ঘটনা ত্রিপুরার সংস্কৃতি নয়
আগরতলা, ২৮ সেপ্টেম্বর: দীর্ঘ এক দশক পর টিটিএএডিসি এলাকার ভিলেজ কমিটি নির্বাচনকে ঘিরে সোমবার ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানালেন মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. মানিক সাহা। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, কোনও ভয় বা চাপের কাছে নত না হয়ে ভোটাররা যেন নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেন।
আগরতলায় একটি অনুষ্ঠানের ফাঁকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে শান্তিপূর্ণভাবেই ভোটগ্রহণ চলছে বলে তাঁকে রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশক জানিয়েছেন। যারা এখনও ভোট দিতে যাননি, তাঁদের দ্রুত ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের আবেদন জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “ভয় না পেয়ে ভোট দিতে বেরিয়ে আসুন। নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিন।” একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে ভোট দেওয়ার আহ্বান তিনি জানাচ্ছেন না। ভোটাররা যাঁকে যোগ্য মনে করবেন, তাঁকেই ভোট দেওয়ার কথা বলেন তিনি। তাঁর মতে, ভোট দেওয়া যেমন নাগরিকের দায়িত্ব, তেমনই এটি তাঁর অধিকার।
এদিকে, রবিবার বামুটিয়ায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের কনভয়কে ঘিরে ইট-পাটকেল ছোড়ার অভিযোগের ঘটনাও এদিন মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে। ঘটনাটি নিয়ে তিনি নিজে খোঁজ নিয়েছেন বলে জানান। পুলিশ প্রশাসনের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মানিক সরকারের সফরের সময় নিরাপত্তার জন্য ডাবল এসকর্টের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং ঘটনাস্থলে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশকর্মীরা তাঁদের দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে জমায়েতের কারণ যা-ই হোক, কোনওভাবেই এ ধরনের আচরণ গ্রহণযোগ্য নয় বলে স্পষ্ট করেন তিনি।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের পরিচয় ও সেখানে তাঁদের জমায়েতের কারণ নিয়েও বিভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। কারও দাবি, ১০,৩২৩-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্টরা সেখানে ছিলেন; আবার অন্য একটি সূত্র রোজভ্যালি-সংক্রান্ত বিষয়কে জমায়েতের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে বলে জানান তিনি।
তবে কারণ যাই হোক, রাজনৈতিক মতপার্থক্যের জেরে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, এ ধরনের আচরণ ত্রিপুরার সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অতীতের সংঘাতপূর্ণ রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে সবাইকে বেরিয়ে আসার আহ্বানও জানান তিনি।
অন্যদিকে, ভিলেজ কমিটি নির্বাচনের ফলাফলকে এলাকার ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। ভোটারদের রায়ের ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট এলাকার প্রতিনিধিত্ব কারা করবেন এবং আগামী দিনে উন্নয়নের দায়িত্ব কারা পাবেন, তা নির্ধারিত হবে বলে জানান তিনি। তাই নির্বাচন যাতে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়, তার ওপরও গুরুত্ব দেন মুখ্যমন্ত্রী।
‘সেবা সংকল্প’-এ সামাজিক সংগঠনগুলির অংশগ্রহণের প্রশংসা
এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনজীবনের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে রাজ্যে আয়োজিত মাসব্যাপী ‘সেবা সংকল্প অভিযান’ নিয়েও বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী ৭ অক্টোবর এই উপলক্ষে ২৫ বছর পূর্ণ হতে চলেছে বলে জানান তিনি। সেই উপলক্ষে সরকার ও দলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, কর্মসূচিকে ঘিরে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনও এগিয়ে এসে নানা উদ্যোগে অংশ নিচ্ছে। সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে তাদের অংশগ্রহণকে স্বাগত জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সামাজিক সংগঠনগুলিকে ‘সেবা সংকল্প অভিযান’-এর অংশ হয়ে এগিয়ে আসার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তাঁদের উদ্যোগের প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী।