গ্রামাঞ্চলে প্রতিদিন গড়ে ২৩ ঘণ্টা ৭ মিনিট এবং শহরে ২৩ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট বিদ্যুৎ সরবরাহ, দুর্গাপুজোয় নিরবচ্ছিন্ন পরিষেবার জন্যও প্রশংসা
আগরতলা, ৬ নভেম্বর: বিদ্যুৎ বণ্টন ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় স্তরে সম্মানিত হলো ত্রিপুরা। রাজ্যের বিদ্যুৎ পরিষেবার মান, নির্ভরযোগ্যতা এবং প্রযুক্তিনির্ভর পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য ত্রিপুরা স্টেট ইলেকট্রিসিটি কর্পোরেশন লিমিটেড (TSECL)-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের (CEA) ‘অ্যাওয়ার্ড অব এক্সিলেন্স ২০২৬’।
দেশের বিদ্যুৎ বণ্টন ব্যবস্থার সার্বিক মানোন্নয়নে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ত্রিপুরার পাশাপাশি অসম ও সিকিমও এই সম্মান অর্জন করেছে। গত ৩ ও ৪ নভেম্বর নয়াদিল্লিতে CEA আয়োজিত দু’দিনের জাতীয় কর্মশালায় এই পুরস্কার প্রদান করা হয়। বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থাগুলির তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা এবং ন্যাশনাল ফিডার মনিটরিং সিস্টেমের (NFMS) সঙ্গে তথ্যের সমন্বয় ছিল কর্মশালার মূল আলোচ্য বিষয়।
TSECL-এর পক্ষ থেকে এই সম্মান গ্রহণ করেন কর্পোরেশনের ডিরেক্টর (টেকনিক্যাল) ডা. সুবীর সেন, এজিএম (DP & C) শিশির দেববর্মা এবং ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (DP & C) জহর দেববর্মা।
রাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, প্রাকৃতিক বিপর্যয়জনিত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় বাদ দিলে ত্রিপুরার গ্রামীণ এলাকায় দৈনিক গড়ে ২৩ ঘণ্টা ৭ মিনিট এবং শহরাঞ্চলে ২৩ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে। চলতি বছরের দুর্গাপুজোর সময়ও প্রায় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পরিষেবা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ প্রশংসা পেয়েছে রাজ্য।
আধুনিক বিদ্যুৎ পরিকাঠামো গড়ে তোলা, পরিষেবার গুণগত মান বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার উপর নজরদারি জোরদার করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টাই এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা।
বিদ্যুৎ সরবরাহে কতক্ষণ বিভ্রাট হচ্ছে, নেটওয়ার্কের কার্যকারিতা কেমন এবং গ্রাহক পরিষেবার মান কতটা উন্নত—এই সমস্ত বিষয় মূল্যায়নের ক্ষেত্রে DISCOM ও NFMS-এর মধ্যে নির্ভুল তথ্য আদানপ্রদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে বিদ্যুৎ বণ্টন পরিষেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিও আরও শক্তিশালী হয়।
এই জাতীয় স্বীকৃতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে রাজ্যের বিদ্যুৎমন্ত্রী রতনলাল নাথ TSECL-এর আধিকারিক, ইঞ্জিনিয়ার এবং কর্মীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাঁদের সম্মিলিত নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের ফলেই এই সম্মান অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পাশাপাশি বিদ্যুৎ দপ্তরের সচিব অভিষেক সিং এবং TSECL-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর বিশ্বজিৎ বসুর ভূমিকারও প্রশংসা করেছে রাজ্য সরকার। প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার উন্নয়ন, পরিষেবার মান বৃদ্ধি এবং তথ্যভিত্তিক নজরদারি জোরদার করার ক্ষেত্রে তাঁদের উদ্যোগ বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আগামী দিনেও রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে আরও উন্নত ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে একই নিষ্ঠা বজায় রাখার জন্য কর্পোরেশনের কর্মীদের আহ্বান জানিয়েছেন বিদ্যুৎমন্ত্রী।