৪৯টি ওয়ার্ডে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ আশিস কুমার সাহার, বাকি দুই আসনের নাম বৃহস্পতিবার। তিপ্রা মথার সঙ্গে জোটের দরজাও খোলা রাখল প্রদেশ কংগ্রেস।
আগরতলা, ৪ নভেম্বর: আসন্ন পুর ও নগর নির্বাচনে বিরোধী ঐক্যের সম্ভাবনায় কার্যত ছেদ পড়ল। বামফ্রন্টের সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শেষ পর্যন্ত এককভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিল প্রদেশ কংগ্রেস। বুধবার প্রদেশ কংগ্রেস ভবনে সাংবাদিক সম্মেলন করে আগরতলা পুর নিগমের ৪৯টি ওয়ার্ডের দলীয় প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশিস কুমার সাহা। বাকি দুটি ওয়ার্ডের প্রার্থীদের নাম বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হবে বলে জানান তিনি।
সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মণ বামফ্রন্টের সঙ্গে জোট না হওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য, পুর নির্বাচনে কংগ্রেস ও বামফ্রন্ট একসঙ্গে লড়াই করলে বিরোধী শক্তি আরও মজবুত হতে পারত। এই সম্ভাবনা নিয়ে কংগ্রেস যথেষ্ট আশাবাদী ছিল। এমনকি সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরীও জোটের পক্ষে ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। দুই দলের বহু কর্মী-সমর্থকও নির্বাচনী সমঝোতা চেয়েছিলেন।
কিন্তু কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে কোনও ধরনের আলোচনা না করেই বামফ্রন্ট একতরফাভাবে ২৬টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে বলে অভিযোগ করেন সুদীপ রায় বর্মণ। তাঁর মতে, এই পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে কংগ্রেসকে ছোট ভাইয়ের মতো বিবেচনা করা হয়েছে। জোটের বিষয়ে পারস্পরিক আলোচনা ও সম্মানের প্রয়োজন থাকলেও বামফ্রন্টের আচরণে সেই মানসিকতার প্রতিফলন দেখা যায়নি। ফলে বাধ্য হয়েই কংগ্রেসকে এককভাবে নির্বাচনী ময়দানে নামতে হচ্ছে।
অন্যদিকে, তিপ্রা মথার সঙ্গে সম্ভাব্য রাজনৈতিক সমঝোতার বিষয়েও ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে কংগ্রেস নেতৃত্ব। বিরোধী ভোটের বিভাজন রুখতে এবং বৃহত্তর রাজনৈতিক সমীকরণের স্বার্থে তিপ্রা মথাকে স্বাগত জানাতে কংগ্রেস আগ্রহী বলে সাংবাদিক সম্মেলনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়।
সব মিলিয়ে আগরতলা পুর নিগম নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ হলো। বাম-কংগ্রেস জোটের সম্ভাবনা আপাতত অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় এখন নজর তিপ্রা মথার পরবর্তী রাজনৈতিক অবস্থানের দিকে। একক শক্তিতে কংগ্রেস কতটা নির্বাচনী লড়াইয়ে প্রভাব ফেলতে পারে, সেটাই এখন রাজনৈতিক মহলের আলোচনার বিষয়।