ছয় পুরুষ ও তিন মহিলা গ্রেফতার, রাতভর পুলিশের অভিযান। পলাতক অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি অব্যাহত, কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র দপ্তরের।
আগরতলা, ৩ নভেম্বর : সিপাহীজলা জেলার বক্সনগরের আশাবাড়িতে বিএসএফ জওয়ানদের উপর হামলার ঘটনায় মোট ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ এবং তিনজন মহিলা রয়েছেন। মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলনে এই তথ্য জানান জেলা পুলিশ সুপার বিজয় দেববর্মা। একই সঙ্গে হামলার সময় বিএসএফের অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি অভিযুক্তদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ সুপার জানান, গত ২ নভেম্বর সকাল প্রায় ৯টা নাগাদ সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত টহলদারির সময় বিএসএফ জওয়ানদের নজরে আসে একটি কথিত পাচারের চেষ্টা। সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করে জওয়ানরা সংশ্লিষ্টদের বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে বচসা ও ধস্তাধস্তির সৃষ্টি হয়। অভিযোগ, সেই সময় পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা বিএসএফ জওয়ানদের লক্ষ্য করে পাথর ছুড়তে শুরু করে এবং তাঁদের উপর হামলার চেষ্টা চালায়। পরবর্তীতে বিএসএফের পক্ষ থেকে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া সন্দেহে এক consignment গাঁজা বাজেয়াপ্ত করা হয়।
পুলিশ সুপারের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রথমে ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্তরা পালিয়ে গেলেও পরবর্তীতে আরও কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে ফিরে আসে। এরপর রাস্তা অবরোধের চেষ্টা করা হয়। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেই সময় বিএসএফের একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ড্যান্ট অন্যান্য জওয়ানদের নিয়ে ঘটনাস্থলের দিকে যাওয়ার পথে হামলার শিকার হন। অভিযোগ, হামলাকারীরা বিএসএফের অস্ত্রও ছিনিয়ে নেয়। এই ঘটনায় দুই বিএসএফ কনস্টেবল এবং একজন অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ড্যান্ট গুরুতরভাবে আহত হন।
খবর পেয়ে পুলিশ ও বিএসএফের অন্যান্য জওয়ানরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করেন এবং চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠান। ঘটনার পরই অভিযুক্তদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। রাতভর বিশেষ অভিযান চালিয়ে মোট ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মঙ্গলবার আদালতে তোলা হবে বলেও জানান পুলিশ সুপার।
সাংবাদিক সম্মেলনে পুলিশ সুপার বিজয় দেববর্মা বলেন, দেশের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা জওয়ানদের উপর গ্রামবাসীদের একাংশের এই ধরনের হামলা অত্যন্ত লজ্জাজনক। পুলিশ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে। ইতিমধ্যে মামলা নথিভুক্ত করে তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। প্রত্যেক অভিযুক্তকে আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য মুখ্যমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশকও তদন্তের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছেন এবং নিজে গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন। পাশাপাশি বিএসএফের আইজি ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
এদিকে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজন অভিযুক্ত এখনও পলাতক রয়েছে বলে পুলিশ সুপার জানিয়েছেন। তাদের দ্রুত গ্রেফতার করে আদালতে পেশ করার জন্য তল্লাশি অভিযান চলছে। বিএসএফ জওয়ানদের উপর এই হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসন যে কোনও ধরনের আপস করতে নারাজ, পুলিশ সুপারের বক্তব্যে সেই বার্তাই স্পষ্ট হয়েছে।