Home আগরতলাঅবৈধ পার্কিং বরদাস্ত নয়, প্রয়োজনে নেওয়া হবে আইনি ব্যবস্থা: মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা

অবৈধ পার্কিং বরদাস্ত নয়, প্রয়োজনে নেওয়া হবে আইনি ব্যবস্থা: মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা

by Debasish
0 comments 7 views

আগরতলায় মাল্টি-লেভেল পার্কিং কমপ্লেক্সের উদ্বোধন

আগরতলা, ৮ অক্টোবর: আগরতলা শহরের দীর্ঘদিনের পার্কিং সমস্যা ও যানজট কমাতে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বৃহস্পতিবার পুরনো মোটরস্ট্যান্ড রোডে নবনির্মিত মাল্টি-লেভেল কার পার্কিং ও কমার্শিয়াল কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. মানিক সাহা। তাঁর বক্তব্য, শহরের যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং নাগরিক পরিকাঠামোর আধুনিকীকরণের ক্ষেত্রে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০২২ সালে এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল। কাজ যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হয়, সেজন্য নিয়মিতভাবে প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। তাঁর মতে, শহরের প্রাণকেন্দ্রে গাড়ি রাখার দীর্ঘদিনের সমস্যার অনেকটাই সমাধান হবে এই পার্কিং কমপ্লেক্স চালু হওয়ার ফলে। পাশাপাশি যান চলাচলও আরও মসৃণ হবে।

সরকারি অর্থ ছাড়াই পিপিপি মডেলে প্রকল্প

মুখ্যমন্ত্রী জানান, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) মডেলে নির্মিত হয়েছে এই প্রকল্প। এর জন্য রাজ্য সরকারের কোনও অর্থ ব্যয় হয়নি। প্রকল্পে বিনিয়োগকারী সংস্থা সরকারকে জমির প্রিমিয়াম প্রদান করেছে এবং পার্কিং ফি-সহ বিভিন্ন আয়ের মাধ্যমে রাজ্য সরকার প্রতি বছর রাজস্বও পাবে বলে জানান তিনি।

শহরের রাস্তার পাশে যত্রতত্র অবৈধভাবে গাড়ি পার্কিং করা আর বরদাস্ত করা হবে না বলেও স্পষ্ট বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনে অবৈধ পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগরতলার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানেও ভবিষ্যতে একই ধরনের পার্কিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে

নতুন এই কমপ্লেক্সকে শুধু যানজট নিরসনের উদ্যোগ নয়, কর্মসংস্থান তৈরির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, এই প্রকল্পের মাধ্যমে আগরতলা ও আশপাশের এলাকার বহু স্থানীয় যুবকের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

পাশাপাশি বাধারঘাটে নির্মীয়মাণ ইউনিটি মল-এর কাজও এগিয়ে চলেছে বলে জানান তিনি। আগামী বছরের মার্চ মাসের মধ্যে সেই প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

কমপ্লেক্সের অন্দরসজ্জায় ত্রিপুরার বাঁশ-বেতের ঐতিহ্য

নতুন কমপ্লেক্সের অন্দরসজ্জায় ত্রিপুরার ঐতিহ্যবাহী বাঁশ ও বেতের হস্তশিল্পকে অন্তর্ভুক্ত করায় বিনিয়োগকারী সংস্থার প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী। এর মাধ্যমে রাজ্যের নিজস্ব সংস্কৃতি ও হস্তশিল্পকে আরও বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।

নতুন পরিকাঠামোটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও চান মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে পার্কিং ব্যবস্থায় যাতে কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়, সেদিকেও নাগরিকদের সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার, ডেপুটি মেয়র মনিকা দাস দত্ত, কাউন্সিলর রত্না দত্ত, মুখ্যমন্ত্রীর সচিব কিরণ গিত্তে, নগর উন্নয়ন দফতরের সচিব মিলিন্দ রামটেকে এবং এএমসি কমিশনার সাজু ওয়াহিদ। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন আগরতলা স্মার্ট সিটি লিমিটেডের সিইও জি. নায়েক এবং তিরুপতি লিমিটেডের ডিরেক্টর উমাং মিওল।

You may also like

Leave a Comment