Table of Contents
প্রাণিস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ও পশু বিমা নিয়ে দুই দিনের সক্ষমতা বৃদ্ধির কর্মসূচি
খোয়াই, ৮ অক্টোবর: বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে শূকর পালন, প্রাণিসম্পদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা এবং পশু বিমা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে খোয়াইয়ে অনুষ্ঠিত হলো দুই দিনের বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। ত্রিপুরা জাইকা প্রকল্পের অধীনে ৭ ও ৮ অক্টোবর চাকমাঘাট বিট মিটিং হলে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
ত্রিপুরা সাসটেইনেবল ক্যাচমেন্ট ফরেস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রজেক্ট (SCATFORM)-এর অধীনে জাইকা-সহায়তায় পরিচালিত এই উদ্যোগটি বন দফতরের ত্রিপুরা জাইকা প্রকল্প এবং প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন দফতর (ARDD)-এর যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়। খোয়াই ডিএমইউ এবং মুঙ্গিয়াকামী আরএমইউ-এর তত্ত্বাবধানে আয়োজিত কর্মসূচিতে হালুদিয়া, চাকমাঘাট ও আঠারামুড়া এলাকার বিভিন্ন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর (SHG) সদস্যরা অংশ নেন।
প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য ছিল শূকর পালনের সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় জনগোষ্ঠীর প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি করা। এর মাধ্যমে উন্নত ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি গ্রহণ করে উৎপাদনশীলতা ও আয় বাড়ানোর পাশাপাশি জীবিকার নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
রোগ প্রতিরোধ ও পরিচর্যার ওপর গুরুত্ব
প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন দফতরের বিশেষজ্ঞরা প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে বৈজ্ঞানিক প্রজনন পদ্ধতি, উপযুক্ত জাত নির্বাচন, স্বাস্থ্যসম্মত শূকর ঘর তৈরি, সুষম খাদ্য ব্যবস্থাপনা, শূকরছানার পরিচর্যা, বায়োসিকিউরিটি এবং বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
এছাড়াও পশুর অসুস্থতার প্রাথমিক লক্ষণ কীভাবে শনাক্ত করা যায়, টিকাকরণ, ভ্যাকসিন সংরক্ষণ ও ব্যবহারের সঠিক পদ্ধতি এবং প্রাণিস্বাস্থ্যের রেকর্ড সংরক্ষণের বিষয়েও অংশগ্রহণকারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
পশু বিমা নিয়ে সচেতনতা
প্রশিক্ষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল প্রাণিসম্পদ বিমা। এই বিষয়ে পশু শনাক্তকরণ ও ট্যাগিং, প্রয়োজনীয় নথিপত্র, বিমায় নাম নথিভুক্তির প্রক্রিয়া, প্রিমিয়াম সংক্রান্ত বিষয় এবং পশুর মৃত্যু বা ক্ষতির ক্ষেত্রে বিমার দাবি জানানোর পদ্ধতি সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের অবহিত করা হয়।
দ্বিতীয় দিনে মাঠ পর্যায়ে প্রাণিস্বাস্থ্য ও বিমা শিবিরের আয়োজন করা হয়। সেখানে পশু চিকিৎসক ও প্রাণিসম্পদ দফতরের কর্মীরা বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরিষেবা ও টিকাকরণ প্রদান করেন। পাশাপাশি যোগ্য স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যদের পশু বিমার আওতায় আনার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা করা হয়।
মাঠ পর্যায়ের এই কর্মসূচিতে এনহুই, তুইফাং বোদোল, হামজাকমা বোদোল, সালকা বোদোল, আইচুক এবং কৃষ্ণমণি বোদোল-সহ বিভিন্ন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যরা অংশ নেন।
পুরো কর্মসূচিটি ত্রিপুরা জাইকা প্রকল্পের চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার তথা প্রজেক্ট ডিরেক্টর বানুমতী বি., আইএফএস-এর নির্দেশনায় পরিচালিত হয়। প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন দফতরের অধিকর্তা ডা. এন. কে. চঞ্চলের কারিগরি সহায়তায় কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
প্রশিক্ষণ ও মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রমে কারিগরি সহায়তা দেন টেলিয়ামুড়ার এসডিভিএইচ-এর সহকারী অধিকর্তা ডা. অভিষেক পাল এবং মুঙ্গিয়াকামী বিউভিএইচ-এর ভেটেরিনারি অফিসার ডা. মার্টিনা দেববর্মা-সহ সংশ্লিষ্ট মাঠকর্মীরা।
প্রাণিসম্পদ নির্ভর পরিবারগুলিকে রোগ ও পশুক্ষতির আর্থিক ঝুঁকি থেকে আরও সুরক্ষিত করতে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি বননির্ভর জনগোষ্ঠীর জন্য টেকসই জীবিকার সুযোগ তৈরি এবং বিভিন্ন দফতরের সমন্বিত উদ্যোগকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও ত্রিপুরা জাইকা প্রকল্পের এই কর্মসূচি সহায়ক হবে।