আগরতলা, ৬ অক্টোবর: ভিলেজ কমিটি নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর এবার তিপ্রাসা চুক্তি বাস্তবায়নের দাবিতে কেন্দ্রের ওপর চাপ বাড়ালেন তিপ্রা মথা পার্টির (TMP) প্রধান প্রদ্যোত কিশোর মানিক্য দেববর্মা। মঙ্গলবার তিনি কেন্দ্রকে আদিবাসী জনগণের সঙ্গে করা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে দ্রুত চুক্তি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু করার আহ্বান জানান।
প্রায় এক দশক পর ত্রিপুরার উপজাতি এলাকায় ভিলেজ কমিটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৫৮৭টি ভিলেজ কমিটির ৪,৫৯৪টি আসনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিপ্রা মথা ৩,৪২৮টি আসনে জয় পেয়েছে। বিজেপি পেয়েছে ৮৫৯টি এবং তাদের জোটসঙ্গী আইপিএফটি পেয়েছে ৩৩টি আসন।
নির্বাচনে দলের সমর্থনে ভোট দেওয়ার জন্য তিপ্রাসা জনগণকে ধন্যবাদ জানান প্রদ্যোত কিশোর। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাচিত প্রতিনিধিত্বহীন থাকা গ্রামগুলিতে এবার ফের নির্বাচিত সংস্থা গঠনের পথ খুলেছে।
ভিলেজ কমিটি নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টি নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন আইনি লড়াই চালিয়েছেন বলেও জানান। প্রথমে ত্রিপুরা হাইকোর্ট এবং পরে সুপ্রিম কোর্টে বিষয়টি নিয়ে যাওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে রাজ্য নির্বাচন কমিশন নির্বাচন সম্পন্ন করে।
নির্বাচন শেষ হওয়ার পর এখন মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত ২০২৪ সালের মার্চ মাসে স্বাক্ষরিত তিপ্রাসা চুক্তি বাস্তবায়ন, বলেন প্রদ্যোত। কেন্দ্র, ত্রিপুরা সরকার এবং তিপ্রা মথার মধ্যে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিতে রাজ্যের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন ও বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রদ্যোত কিশোর জানান, দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকের সময় তাঁকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে দুর্গাপুজোর পর ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহার উপস্থিতিতে চুক্তি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে। তাঁর আশা, কেন্দ্র আদিবাসী এলাকার মানুষের কাছে দেওয়া এই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে।
তিনি বলেন, বছরের পর বছর ধরে চুক্তি বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছেন তিপ্রাসা জনগণ। প্রতিশ্রুতি পূরণে আরও দেরি হলে মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে আগামী ২০২৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আবার মানুষের কাছে গিয়ে সমর্থন চাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
একইসঙ্গে ত্রিপুরায় বসবাসকারী কোনও সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে তিপ্রা মথা নয় বলে স্পষ্ট করেন প্রদ্যোত কিশোর। তাঁর বক্তব্য, ছোট এই রাজ্যের বৃহত্তর স্বার্থে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা জরুরি। তবে এর পাশাপাশি টিটিএএডিসি এলাকায় তিপ্রাসা জনগণের ন্যায্য অধিকার, বিশেষ করে জমির অধিকার, সুরক্ষিত করার দাবি জানান তিনি।
উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যান্য ষষ্ঠ তফসিলভুক্ত এলাকায় যেভাবে আদিবাসীদের অধিকার সুরক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে, ত্রিপুরার ক্ষেত্রেও সেই ধরনের সুরক্ষার প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান তিপ্রা মথা প্রধান।