আগরতলা, ৬ অক্টোবর: ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিলের (TTAADC) ভিলেজ কমিটি নির্বাচনে পুরুষ ভোটারদের ছাপিয়ে গেলেন মহিলা ভোটাররা। ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের চূড়ান্ত পরিসংখ্যান প্রকাশ করে এই তথ্য জানিয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। কমিশনার পি কে চক্রবর্তী জানান, ভোটকেন্দ্রে মোট ২,৭০,৮৯৭ জন মহিলা ভোট দিয়েছেন। সেখানে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ২,৬২,৯১১ জন। অর্থাৎ পুরুষের তুলনায় ৭,৯৮৬ জন বেশি মহিলা ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।
রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচন ডিউটি ভোট (EDV) সহ মোট ৫,৪০,৪৩৬টি ভোট পড়েছে। এর মধ্যে ভোটকেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন ৫,৩৩,৮০৮ জন এবং EDV-এর মাধ্যমে ভোট দিয়েছেন আরও ৬,৬২৮ জন। সব মিলিয়ে মোট ভোটদানের হার দাঁড়িয়েছে ৮১.২৯ শতাংশ।
জেলাভিত্তিক ভোটদানের হারে সর্বোচ্চ স্থানে রয়েছে দক্ষিণ ত্রিপুরা, সেখানে ভোট পড়েছে ৮৬.০৮ শতাংশ। অন্যদিকে পশ্চিম ত্রিপুরায় ভোটদানের হার ছিল সর্বনিম্ন, ৭২.৬৪ শতাংশ।
ফলাফলে তিপ্রা মথা ৩,৪২৮ আসনে
চূড়ান্ত ফলাফলের পরিসংখ্যানও এদিন প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, তিপ্রা মথা পার্টি (TMP) ৩,৪২৮টি আসনে জয় পেয়েছে এবং তাদের ভোটের হার ৪৬.৭৬ শতাংশ। বিজেপি ৮৫৯টি আসনে জয়ী হয়েছে, ভোটের হার ২৮ শতাংশ। অন্যদিকে আইপিএফটি ৩৩টি আসন পেয়েছে, তাদের ভোটের হার ২.৭৪ শতাংশ।
ভিলেজ কমিটি সংখ্যার নিরিখে তিপ্রা মথা ৪৫৭টি কমিটিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়েছে ৯৪টি ভিলেজ কমিটিতে। সিপিআই(এম) এবং আইপিএফটি দুটি করে কমিটিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। এছাড়া ৩১টি ভিলেজ কমিটিকে স্বাধীন শ্রেণিতে রাখা হয়েছে, যেখানে কোনও দলের স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই বা নির্দল প্রার্থীদের প্রাধান্য রয়েছে।
ভোটের হারে সিপিআই(এম)-এর প্রাপ্তি ১২.৯০ শতাংশ, নির্দলদের ৭.৭৪ শতাংশ এবং কংগ্রেসের ১.৮৬ শতাংশ। আসনের হিসাবে নির্দলরা ১৭৩, সিপিআই(এম) ৮৭ এবং কংগ্রেস ১৪টি আসন পেয়েছে। তিনটি আসন এখনও শূন্য রয়েছে।
৪৪টি কেন্দ্রে গণনা, ছিল কড়া নিরাপত্তা
৫ অক্টোবর সকাল ৮টা থেকে রাজ্যের ৪৪টি আরডি ব্লকের ৪৪টি গণনাকেন্দ্রের ৪৫টি হলে ভোটগণনা শুরু হয়। অধিকাংশ কেন্দ্রে সন্ধ্যার মধ্যেই গণনা শেষ হলেও মানু আরডি ব্লকে গণনা ৬ অক্টোবর ভোর পর্যন্ত চলে।
গণনাকেন্দ্রগুলিতে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী, ত্রিপুরা পুলিশ এবং টিএসআরকে নিয়ে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছিল। নির্বাচন কমিশনের দাবি, কোনও গণনাকেন্দ্রের ভিতরে নিরাপত্তাজনিত বড় ধরনের ঘটনা বা গণনা প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটেনি। সালেমা, তুলাশিখর ও কাঠালিয়া আরডি ব্লকে গণনার আগে সামান্য উত্তেজনা তৈরি হলেও পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।