আগরতলা, ৬ অক্টোবর: ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা মঙ্গলবার সরকারি কর্মচারীদের জন্য ৩ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) এবং পেনশনভোগী ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের জন্য মহার্ঘ ত্রাণ (ডিআর) বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করেছেন, যার ফলে মোট ডিএ/ডিআর বেড়ে দাঁড়ালো ৪৪ শতাংশে।
এদিন ক্যাবিনেট বৈঠকের পর মহাকরণে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা জানান, সংশোধিত ডিএ ও ডিআর ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হবে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই সিদ্ধান্তের ফলে বার্ষিক প্রায় ৩০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ হবে, আর চলতি অর্থবর্ষে রাজ্য সরকার খরচ করবে প্রায় ১২৫ কোটি টাকা।”
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বাড়ি ভাড়া ভাতা (হাউজ রেন্ট এলাউন্স) বৃদ্ধির ঘোষণাও করেছেন। তিনি বলেন, “সংশোধিত বিধান অনুসারে, ১ অক্টোবর থেকে সরকারি কর্মচারীরা তাদের মূল বেতনের ১০ শতাংশ হাউজ রেন্ট পাবেন, যা প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।”
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরার সীমিত আর্থিক ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও সরকারি কর্মচারী ও পেনশনারদের কল্যাণের স্বার্থে রাজ্য সরকারের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এই সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলি নেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার বিশ্বাস করে যে প্রশাসন পরিচালনা, সরকারের সিদ্ধান্ত ও প্রকল্পগুলি বাস্তবায়ন এবং সাধারণ মানুষকে পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে কর্মচারীরা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
ডাঃ সাহা বলেন, ২০১৮ সালে আমাদের সরকার ক্ষমতায় আসার পর, আমরা সপ্তম বেতন কমিশন বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম এবং আমরা সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করেছি। ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর বৃদ্ধি করা হয়েছিল, যার ফলে মূল বেতন ১৪.২২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল।
তিনি জানান, ডিএ এবং ডিআর বাড়াতে ২০১৮ সাল থেকে সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। সাম্প্রতিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধির মাধ্যমে, ডিএ/ডিআর এখন ৪৪ শতাংশে গিয়ে পৌঁছেছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মচারীদের মধ্যে ডিএ-র যে ফারাক রয়েছে, তা নিয়েও সরকার চিন্তা করছে। যেখানে কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মচারীরা বর্তমানে প্রায় ৬০ শতাংশ ডিএ পাচ্ছেন, সেখানে রাজ্য সরকারের হার এখন হবে ৪৪ শতাংশ, যা প্রায় ১৬ শতাংশের ফারাক বজায় রাখছে। আর আমরা এই ফারাক ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার জন্য কাজ করছি।
অষ্টম বেতন কমিশনের প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই প্রক্রিয়া শুরু করেছে, আর রাজ্য সরকারও বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। তিনি ২০১৮ সালের সরকারের রিক্রুটমেন্ট পলিসির কথাও তুলে ধরেন, যার অধীনে সরাসরি সরকারি নিয়োগে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
এদিন এই গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরার অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায় এবং অর্থ দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকগণ।