Table of Contents
দাবি পূরণে গাফিলতি হলে ফের কর্মবিরতির হুঁশিয়ারি, আন্দোলন প্রত্যাহারের আবেদন মুখ্যমন্ত্রীর
আগরতলা, ৫ অক্টোবর: বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে জিবি পন্ত হাসপাতাল ও রেসিডেন্ট ডাক্তারদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও অন্যান্য কনটেন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস পেয়ে সোমবার সাময়িকভাবে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করলেন আগরতলা সরকারি মেডিকেল কলেজ ও জিবি পন্ত হাসপাতালের রেসিডেন্ট ডাক্তাররা। তবে প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে দেওয়া আশ্বাস কার্যকর না হলে ফের কর্মবিরতিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনরত চিকিৎসকরা।
আন্দোলনরত এক রেসিডেন্ট ডাক্তার জানান, রেসিডেন্ট ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন, স্টুডেন্ট কাউন্সিল, ইন্টার্ন এবং সিনিয়র রেসিডেন্টদের প্রতিনিধিরা অতিরিক্ত সচিব ও পশ্চিম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার আশ্বাস দেয়। অভিযোগের সঙ্গে জড়িত এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে বলেও প্রশাসনের তরফে জানানো হয়।
চিকিৎসকদের দাবি অনুযায়ী, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও অন্যান্য আপত্তিকর কনটেন্ট সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। যারা ভবিষ্যতে ওই ধরনের ভিডিও বা তথ্য প্রচার করবে, তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর করার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের ভিতরে বুলিং, মানহানি এবং অনুমতি ছাড়া বিভিন্ন কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়।
এরপর প্রতীকী মিছিল করার পর চিকিৎসকরা আপাতত কর্মবিরতি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেন। তবে আন্দোলনরত চিকিৎসকরা স্পষ্ট করে দেন, প্রশাসন, পুলিশ বা সরকার যথাযথ সহযোগিতা না করলে কিংবা দেওয়া আশ্বাস বাস্তবায়ন না হলে ফের কর্মবিরতিতে যেতে বাধ্য হবেন তারা।
হাসপাতালের ভিতরে অনুমতিহীন ছবি-ভিডিও নিয়েও উদ্বেগ
হাসপাতালের ভিতরে অনুমতি ছাড়া ছবি ও ভিডিও করার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রেসিডেন্ট চিকিৎসকরা। বিশেষ করে রোগীদের গোপনীয়তা ও ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষার বিষয়টি তুলে ধরে হাসপাতাল চত্বরে অনুমতিহীন রেকর্ডিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
হাসপাতালে ছবি ও ভিডিও ধারণ সংক্রান্ত নিয়ম এবং লঙ্ঘন করলে কী শাস্তি হতে পারে, তা প্রকাশ্যে প্রদর্শনেরও দাবি জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
পশ্চিম ত্রিপুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ধ্রুব নাথ জানান, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কথিত ভুয়ো ভিডিওগুলির বিষয়ে সাইবার সেল নজরদারি চালাচ্ছে। ওই ধরনের কনটেন্ট সরিয়ে দেওয়ার জন্যও পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের সম্পর্কে পাওয়া তথ্য সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠানো হয়েছে এবং তদন্ত চলছে বলেও জানান তিনি।
হাসপাতালে মোবাইল নিষিদ্ধের বিষয়েও আলোচনা
এনএইচএম-এর মিশন ডিরেক্টর সাজু ওয়াহিদ এ জানান, রোগীদের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে হাসপাতাল ও বিশেষ করে জরুরি বিভাগে সাধারণত ছবি ও ভিডিও ধারণ নিষিদ্ধ। রোগীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে বা হাসপাতালের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তিকর ভিডিও তৈরি ও প্রচার করা হলে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি।
হাসপাতালের ভিতরে মোবাইল ফোন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার বিষয়টি সরকারিভাবে আলোচনায় রয়েছে বলেও জানান সাজু ওয়াহিদ। তবে সর্বত্র মোবাইল নিষিদ্ধ করা বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়েও আলোচনা চলছে। তাঁর বক্তব্য, সবকিছুর ঊর্ধ্বে রোগীদের নিরাপত্তাই সরকারের কাছে অগ্রাধিকার।
আইন মেনেই ব্যবস্থা: মুখ্যমন্ত্রী
এদিকে রেসিডেন্ট ডাক্তারদের আন্দোলনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা।
সোমবার বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের ইতিমধ্যেই জানিয়েছি। নির্দেশও পেয়েছি। আইন অনুযায়ী পুরো প্রক্রিয়া এগোতে হবে। এমন নয় যে আমি যাকে-তাকে গিয়ে গ্রেফতার করে দেব।”
মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিষয়টি তার নজরে রয়েছে এবং আইন অনুযায়ী প্রক্রিয়া চলবে। একইসঙ্গে প্রতিবাদের ধরন নিয়েও তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। কর্মবিরতি যদি এখনও সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার না হয়ে থাকে, তাহলে আন্দোলনরত চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার করার আবেদন জানাবেন বলেও জানান তিনি।
আশ্বাসের পর আপাতত কর্মবিরতি স্থগিত হলেও চিকিৎসকদের পরবর্তী পদক্ষেপ এখন নির্ভর করছে প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে দেওয়া আশ্বাস কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, তার ওপর।