দুর্গাপূজার সৃজনশীলতা ও নান্দনিকতাকে স্বীকৃতি দিতে ফের বর্ণাঢ্য আয়োজন; প্রতিমা, মণ্ডপ ও আলোকসজ্জা-সহ একাধিক বিভাগে পুরস্কার
আগরতলা, ২ অক্টোবর: শারদোৎসবের আনন্দে পুজো মণ্ডপের শিল্পভাবনা, প্রতিমার নির্মাণশৈলী এবং আলোকসজ্জার নান্দনিকতাকে স্বীকৃতি জানাতে ফের প্রস্তুত স্যন্দন শারদ সম্মান। ২০২৬ সালে ত্রয়োদশ বর্ষে পদার্পণ করতে চলেছে এই সম্মাননা অনুষ্ঠান। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের পুজো উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণে এবারের আয়োজনকে ঘিরেও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, ত্রিপুরার জাতি-উপজাতি নির্বিশেষে মানুষের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সামাজিক সম্প্রীতির এক মিলনমেলা। প্রতি বছর বিভিন্ন ক্লাব ও পুজো কমিটি নিজেদের সৃজনশীল ভাবনায় মণ্ডপ, প্রতিমা ও আলোকসজ্জাকে নতুন রূপে সাজিয়ে তোলে। সেই শিল্পকর্ম ও উদ্যোগকে বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরতেই ২০১৩ সালে স্যন্দন পত্রিকার হাত ধরে শুরু হয়েছিল স্যন্দন শারদ সম্মানের পথচলা।
দীর্ঘ ১২ বছরের ধারাবাহিকতায় এই উদ্যোগ রাজ্যের পুজো উদ্যোক্তাদের কাছে একটি পরিচিত সম্মাননায় পরিণত হয়েছে। গত কয়েক বছরে স্যন্দন পত্রিকা ও স্যন্দন টিভির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় ৫০টিরও বেশি ক্লাব ও পুজো কমিটি অংশ নিয়েছে। এবছরও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অংশগ্রহণের আশা করছেন আয়োজকরা।
এবারের প্রতিযোগিতায় মোট দশটি বিভাগে সম্মাননা প্রদানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সেরার সেরা, সেরা প্রতিমা, সেরা মণ্ডপ, বড় বাজেটের পুজো, মাঝারি বাজেটের পুজো, ছোট বাজেটের পুজো এবং সেরা আলোকসজ্জা বিভাগে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স পুরস্কার। পাশাপাশি আবাসন পুজোর সেরা পাঁচ, বিশেষ পুরস্কার এবং সম্পাদকের পছন্দ বিভাগেও সম্মাননা দেওয়া হবে।
প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী পুজো কমিটিগুলির শিল্পভাবনা, পরিকল্পনা ও সামগ্রিক আয়োজনের মূল্যায়নের দায়িত্বে থাকছেন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের নিয়ে গঠিত বিচারকমণ্ডলী। এবারের বিচারক হিসেবে রয়েছেন নভোজ্যোতি ভারতী, গ্রাফিক্স ডিজাইনার জয়দীপ ভট্টাচার্য, সরকারি আর্ট কলেজের অধ্যাপক জয়ন্ত দেব এবং স্বাধীন শিল্পী ও ইলাস্ট্রেটর ঈশিতা দাস।
দুর্গোৎসবের শিল্পসৌন্দর্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় ঐতিহ্য, সৃজনশীলতা এবং সামাজিক বার্তাবাহী উদ্যোগগুলিকে উৎসাহিত করাই এই আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য। এবারের স্যন্দন শারদ সম্মানের সার্বিক সহযোগিতায় রয়েছে নির্মাণ কনস্ট্রাকশন।
আগ্রহী পুজো কমিটিগুলি স্যন্দন পত্রিকার কার্যালয় থেকে বিনামূল্যে আবেদনপত্র সংগ্রহ করতে পারবে। আবেদনপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ১৩ অক্টোবর ২০২৬। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন জমা দেওয়ার জন্য পুজো উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আয়োজকরা।