আগরতলা, ২৭ সেপ্টেম্বর: শারীরিক সক্ষমতা, নিয়মানুবর্তিতা ও কঠোর অনুশীলনের বার্তা নিয়ে আগরতলা টাউন হলে অনুষ্ঠিত হলো স্টেট লেভেল বডিবিল্ডিং চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৬। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অংশগ্রহণকারী বডিবিল্ডারদের উপস্থিতিতে প্রতিযোগিতাকে ঘিরে উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল চোখে পড়ার মতো। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যুব বিষয়ক ও ক্রীড়ামন্ত্রী টিংকু রায়, প্রাক্তন বিধায়ক দিলীপ দাস সহ ক্রীড়াক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী টিংকু রায় রাজ্যের ক্রীড়াক্ষেত্রে প্রতিভা অন্বেষণ থেকে শুরু করে পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করার বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ত্রিপুরার মতো ছোট রাজ্যেও প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের অভাব নেই। সঠিক সময়ে প্রতিভা চিহ্নিত করে প্রশিক্ষণ ও সুযোগ দেওয়াই এখন মূল লক্ষ্য।

মন্ত্রী জানান, গত তিন বছরে রাজ্যজুড়ে প্রায় ৪৫ হাজার শিশুকে নিয়ে ট্যালেন্ট সার্চ কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ক্রীড়াক্ষেত্রে সম্ভাবনাময় প্রতিভাদের চিহ্নিত করার পাশাপাশি তাদের এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ক্রীড়াক্ষেত্রে সংগঠনগুলিকে আরও সুসংগঠিত করার বিষয়টিও বক্তব্যে তুলে ধরেন টিংকু রায়। তিনি বলেন, একই খেলায় একাধিক অ্যাসোসিয়েশন থাকার কারণে দীর্ঘদিন ধরে যে সমস্যা ছিল, তা কাটিয়ে উঠতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ৩২টি অ্যাসোসিয়েশনকে নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে আনা হয়েছে বলে তিনি জানান।

রাজ্যের খেলোয়াড়দের জাতীয় স্তরে সাফল্যের কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সুব্রত কাপের মতো প্রতিযোগিতায় ত্রিপুরার দল দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ, পঞ্জাব ও হরিয়ানার মতো রাজ্যের বিরুদ্ধে সাফল্য অর্জন করেছে। অনূর্ধ্ব-১৪, ১৭ ও ১৯ বিভাগেও জাতীয় পর্যায়ে রাজ্যের খেলোয়াড়রা উল্লেখযোগ্য ফলাফল করেছে বলে জানান তিনি।

খেলোয়াড়দের সাফল্যকে উৎসাহিত করতে আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থার কথাও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, জাতীয় ও স্কুল ফেডারেশন পর্যায়ে স্বর্ণপদকজয়ীদের ১ লক্ষ টাকা, রৌপ্যপদকজয়ীদের ৫০ হাজার টাকা এবং ব্রোঞ্জপদকজয়ীদের ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত উৎসাহ ভাতা দেওয়া হচ্ছে।
এদিনের অনুষ্ঠানে প্রাক্তন ক্রীড়াবিদদের কর্মসংস্থানের বিষয়টিও তুলে ধরেন টিংকু রায়। তিনি জানান, ক্রীড়া দপ্তরে নতুন ৩৫০টি ফিজিক্যাল ইনস্ট্রাক্টর বা PI পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রাক্তন পদকজয়ী ক্রীড়াবিদদের অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।

বডিবিল্ডিংয়ের মতো শারীরিক সক্ষমতা ও কঠোর অনুশীলননির্ভর খেলাগুলির প্রসারে প্রতিযোগিতা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ আরও বাড়ানো প্রয়োজন বলেও অনুষ্ঠানে গুরুত্ব দেওয়া হয়। মন্ত্রী টিংকু রায় আশা প্রকাশ করেন, ধারাবাহিক অনুশীলন, সঠিক প্রশিক্ষণ এবং উপযুক্ত সুযোগ পেলে ত্রিপুরার ক্রীড়াবিদরা আগামী দিনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে আরও বড় সাফল্য অর্জন করতে পারবেন।
