কয়েকদিনের টানাপোড়েনের পর আমতলী থানার পুলিশের জালে অভিযুক্ত; নাবালিকার মেডিকেল পরীক্ষা, POCSO ধারা যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা
আগরতলা, ২৫ সেপ্টেম্বর: ১৩ বছরের এক নাবালিকাকে অপহরণের অভিযোগে অবশেষে গ্রেফতার করা হলো জনি দেববর্মাকে। বৃহস্পতিবার আমতলী থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অপহরণের মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০-১২ দিন আগে আমতলী থানার অন্তর্গত কাঞ্চনমালা এলাকা থেকে ১৩ বছরের এক নাবালিকা নিখোঁজ হয়। পরিবারের অভিযোগ, তেলিয়ামুড়া থানার অন্তর্গত খাসিয়ামঙ্গল দয়ারাম পাড়া এলাকার বাসিন্দা রবি দেববর্মার ছেলে জনি দেববর্মা নাবালিকাকে নিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর নাবালিকার পরিবারের পক্ষ থেকে আমতলী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তে নামে আমতলী থানার পুলিশ। অভিযুক্তের বাড়িতে অভিযান চালানো হলেও তখন তাকে পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে অভিযুক্তের বাড়ি থেকেই নাবালিকাকে উদ্ধার করা হয়। সেই সময় জনি দেববর্মাকে তেলিয়ামুড়া থানায় আটক করা হয়েছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়।
তবে পরবর্তীতে অভিযুক্তকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্নও দেখা দেয়। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনার মধ্যেই মামলার তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যায় আমতলী থানার পুলিশ।
অবশেষে বৃহস্পতিবার আমতলী থানার ওসি ইন্সপেক্টর রানা চ্যাটার্জি এবং মামলার তদন্তকারী অফিসার এএসআই গোপাল দাসের নেতৃত্বে অভিযুক্ত জনি দেববর্মাকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, নাবালিকার শারীরিক পরীক্ষার জন্য শুক্রবার দুপুরে হাঁপানিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ সূত্রের দাবি, মেডিকেল পরীক্ষার রিপোর্ট ও তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় আইনি ধারা যুক্ত করার প্রক্রিয়া এগোতে পারে। বর্তমানে অপহরণের মামলা নথিভুক্ত হলেও POCSO আইনের ধারা যুক্ত হয়েছে কি না, তা নিয়ে পুলিশি প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, শনিবার আদালতে নাবালিকার জবানবন্দি রেকর্ড করা হতে পারে। তদন্তের স্বার্থে ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ।