আগরতলা, ২৫ সেপ্টেম্বর: মানুষের কল্যাণ এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া ও প্রান্তিক অংশের উন্নয়নই বিজেপির উন্নয়ন ভাবনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু বলে মন্তব্য করলেন রাজ্যের বিদ্যুৎ, কৃষি ও কৃষক কল্যাণমন্ত্রী রতনলাল নাথ। শুক্রবার মোহনপুর মোটরস্ট্যান্ডে বিজেপির মাসব্যাপী ‘সেবা সংকল্প’ কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে আয়োজিত প্রবীণ নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিন উপলক্ষে ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে মাসব্যাপী ‘সেবা সংকল্প’ কর্মসূচি পালন করছে বিজেপি। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই মোহনপুরে প্রবীণ নাগরিকদের নিয়ে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রবীণদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন মন্ত্রী এবং স্থানীয় উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে তাঁদের মতামত ও পরামর্শ শোনেন।

অনুষ্ঠানে প্রবীণ নাগরিকদের শাল পরিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয়। তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয় শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার কপি। পাশাপাশি তাঁদের জন্য জলখাবারেরও ব্যবস্থা করা হয়।
রতনলাল নাথ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনকে শুধুমাত্র উৎসব হিসেবে পালন না করে মানুষের সেবার মাধ্যমে তা উদযাপন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জনসাধারণ ও সমাজের প্রান্তিক মানুষের উন্নয়ন ও কল্যাণকে সামনে রেখেই দীর্ঘ সময় ধরে জনজীবনে কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক দলগুলির আদর্শ ও রাজনৈতিক দর্শন ভিন্ন হতে পারে।

তবে বিজেপির দর্শনে সমাজের সামগ্রিক কল্যাণ এবং পিছিয়ে থাকা মানুষের উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
শুধু রাস্তা, ঘরবাড়ি, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, শিল্প বা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে উন্নয়নের একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে দেখলে চলবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, প্রকৃত উন্নয়নের সঙ্গে মানুষের শারীরিক, মানসিক, বৌদ্ধিক ও আধ্যাত্মিক বিকাশও জড়িয়ে রয়েছে।

সমাজের আর্থিকভাবে দুর্বল মানুষদের উন্নয়নের মূল স্রোতে নিয়ে আসার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, আদিবাসী, তফসিলি জাতি, অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি কিংবা সাধারণ সম্প্রদায়—পরিচয় নির্বিশেষে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা প্রত্যেক মানুষের কাছে উন্নয়নের সুযোগ পৌঁছে দিতে হবে।
সমন্বিত মানবতাবাদের দর্শনের প্রসঙ্গ তুলে রতনলাল নাথ স্বামী বিবেকানন্দ ও পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের চিন্তাধারার কথাও উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, মানুষের সার্বিক কল্যাণের বিষয়টিই এই চিন্তাধারার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।
প্রবীণ নাগরিকদের প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, তাঁদের দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান সমাজের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান। তাই শুধুমাত্র সম্মান জানানোর উদ্দেশ্যে নয়, তাঁদের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শকে স্থানীয় উন্নয়নমূলক কাজে যুক্ত করতেই এই ধরনের কর্মসূচি আয়োজন করা হচ্ছে।
