Home ত্রিপুরাগাছ কাটা ঘিরে আমবাসায় বনকর্মী-গ্রামবাসী সংঘর্ষ, ৩ রাউন্ড গুলি চালানোর অভিযোগ

গাছ কাটা ঘিরে আমবাসায় বনকর্মী-গ্রামবাসী সংঘর্ষ, ৩ রাউন্ড গুলি চালানোর অভিযোগ

by Debasish
0 comments 1 views

নকুলপাড়ায় উত্তেজনা, আহত ফরেস্টার হাসপাতালে; জাতীয় সড়ক অবরোধ গ্রামবাসীদের

আমবাসা, ২৫ সেপ্টেম্বর: জঙ্গলে গাছ কাটা নিয়ে বন দফতরের কর্মী ও গ্রামবাসীদের মধ্যে সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে শুক্রবার তীব্র উত্তেজনা ছড়াল ধলাই জেলার আমবাসা মহকুমার কাঠালবাড়ি সংলগ্ন নকুলপাড়া এলাকায়। সংঘর্ষের মধ্যে বনকর্মীদের পক্ষ থেকে তিন রাউন্ড গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় চিরঞ্জিত দেববর্মা নামে এক ফরেস্টার আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তাঁকে কুলাই জেলা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আসাম-আগরতলা জাতীয় সড়কের কাঠালবাড়ি সংলগ্ন নকুলপাড়া এলাকায় কয়েকজন গ্রামবাসী জঙ্গলে গাছ কাটছিলেন বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে বন দফতরের আধিকারিক ও কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাছ কাটায় বাধা দেন। এরপরই বনকর্মীদের সঙ্গে গ্রামবাসীদের বচসা শুরু হয়। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে একপর্যায়ে সংঘর্ষের রূপ নেয়।

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, সংঘর্ষের সময় বনকর্মীদের পক্ষ থেকে তিন রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। এরপর পরিস্থিতি আরও অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে এবং দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষে এক বনকর্মী আহত হন বলে জানা গেছে।

ঘটনার পর বন দফতরের এক আধিকারিক ঘটনাস্থল থেকে সরে যান বলে স্থানীয়দের দাবি। এরপর ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা নকুলপাড়া এলাকায় আসাম-আগরতলা জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। খবর পেয়ে আমবাসা মহকুমা পুলিশ আধিকারিকের নেতৃত্বে আমবাসা থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।

পুলিশ আধিকারিকরা অবরোধকারীদের সঙ্গে কথা বলে রাস্তা অবরোধ তুলে নেওয়ার আবেদন জানালেও গ্রামবাসীরা তাঁদের দাবিতে অনড় থাকেন। তাঁদের বক্তব্য, এলাকায় কাজের সুযোগ ও পর্যাপ্ত খাদ্যের ব্যবস্থা নেই। দীর্ঘদিন ধরেই গাছ বিক্রি করে তাঁরা সংসার চালাচ্ছেন। তাই এই কাজ বন্ধ করতে বাধা দেওয়া হলে তাঁদের জীবিকা সংকটে পড়বে।

গ্রামবাসীদের দাবি, গাছ কাটার বিষয়টি নিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে বাধা সৃষ্টি না করে সরকারকে বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। এমনকি প্রতিটি পরিবারের অন্তত একজনকে চাকরি দেওয়ার দাবিও তোলা হয় তাঁদের পক্ষ থেকে।

অন্যদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠার পরও আমবাসা মহকুমার সংশ্লিষ্ট বন আধিকারিকরা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত না হওয়ায় ক্ষোভ আরও বাড়ে। যদিও গুলি চালানোর অভিযোগ, সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ এবং বন দফতরের পক্ষের বক্তব্য এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট নয়।

এদিকে আহত ফরেস্টার চিরঞ্জিত দেববর্মা বর্তমানে কুলাই জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাপা উত্তেজনা রয়েছে এবং পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে পুলিশ।

উল্লেখ্য, আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর ত্রিপুরায় এডিসির ভিলেজ কমিটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তার ঠিক আগে আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় বন-জমি ও জীবিকার প্রশ্নকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষ নতুন করে প্রশাসনের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

ঘটনার পরবর্তী পরিস্থিতি এবং গুলি চালানোর অভিযোগের বিষয়ে বন দফতর ও পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য সামনে এলে ছবিটি আরও স্পষ্ট হবে।

You may also like

Leave a Comment