আগরতলা, ৮ সেপ্টেম্বর: আসন্ন ভিলেজ কমিটি নির্বাচনকে ঘিরে বড়সড় জয়ের প্রত্যাশা প্রকাশ করলেন রাজ্যের প্রবীণ বিজেপি নেতা তথা বিদ্যুৎমন্ত্রী রতন লাল নাথ। তাঁর দাবি, বিজেপি নেতৃত্বাধীন NDA জোট ৪,৫৯৭টি আসনের মধ্যে ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ আসনেই জয়ী হতে পারে। একইসঙ্গে ত্রিপুরায় বামেদের কোনও স্থায়ী ‘দুর্গ’ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সোমবার সন্ধ্যায় একটি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রতন লাল নাথ জানান, রাজ্যের ৫৮টি ব্লকের মধ্যে ৫২টি ব্লকে ভিলেজ কমিটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মোট ৫৮৭টি ভিলেজ কমিটির ৪,৫৯৭টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। তাঁর মতে, এত বিপুল সংখ্যক আসন নিয়ে এই নির্বাচন অত্যন্ত জটিল ও বৃহৎ একটি নির্বাচনী প্রক্রিয়া। তবে দীর্ঘ আলোচনার পর বিজেপি, তিপ্রা মথা ও আইপিএফটির মধ্যে আসন সমঝোতা সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান তিনি।
রতন লাল নাথ বলেন, “৪,৫৯৭টি আসনের মধ্যে বিজেপি, তিপ্রা মথা ও আইপিএফটি ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ আসনে জয়ী হবে বলে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি।” তবে এটি তাঁর রাজনৈতিক অনুমান ও প্রত্যাশা।
ত্রিপুরায় বামেদের ‘স্থায়ী ঘাঁটি’ রয়েছে—এই ধারণা নাকচ করে মন্ত্রী বলেন, কোনও রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী আধিপত্য চিরস্থায়ী নয়। মানুষের কাছে ইতিবাচক বিষয়গুলি সফলভাবে তুলে ধরতে পারলে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যেতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে তিনি আদিবাসী অধ্যুষিত ২০টি বিধানসভা আসনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, একসময় এই আসনগুলিতে সিপিএমের যথেষ্ট প্রভাব থাকলেও ২০১৮ ও ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দলটি ওই আসনগুলির একটিতেও জয় পায়নি।
বিজেপি-তিপ্রা মথা-আইপিএফটির আসন সমঝোতা প্রসঙ্গে রতন লাল নাথ জানান, তিপ্রা মথার বিভিন্ন দাবি নিয়ে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার উপস্থিতিতে আলোচনা হয়। প্রায় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা ধরে আলোচনার পর ভিলেজ কমিটি নির্বাচনের আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। সাধারণত এই ধরনের সমঝোতায় ১৫ থেকে ২০ দিন পর্যন্ত সময় লেগে যায় বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
জোটের শরিকদের মধ্যে স্থানীয় স্তরে যে কোনও মতপার্থক্য দ্রুত মিটিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। তাঁর দাবি, সামগ্রিকভাবে এই সমঝোতা নিয়ে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। কল্যাণপুর ও রাইমা ভ্যালির মতো এলাকায় তৃণমূল স্তরে জোটের সমন্বয়ের উদাহরণও তুলে ধরেন তিনি।
এদিকে মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ সময় ঘনিয়ে আসায় রাজ্য নির্বাচন কমিশনের কাছে বিশেষ আবেদন জানান রতন লাল নাথ। তাঁর বক্তব্য, নির্ধারিত সময়সীমার আগে কোনও প্রার্থী মনোনয়ন কেন্দ্রের ভিতরে প্রবেশ করলে প্রয়োজন হলে রাত পর্যন্ত সময় লাগলেও তাঁর মনোনয়নপত্র জমা নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।
সিপিএমকে আক্রমণ করে মন্ত্রী অভিযোগ করেন, বেশ কিছু এলাকায় নির্বাচনী সম্ভাবনা দুর্বল বুঝতে পেরে বামেরা প্রার্থী দিতে অনাগ্রহী। তবে তাঁর এই বক্তব্যও রাজনৈতিক দাবি হিসেবেই রয়েছে।
রতন লাল নাথ আরও জানান, বিজেপি, তিপ্রা মথা ও আইপিএফটি পৃথকভাবে নয়, বরং জোটের প্রার্থী হিসেবেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। নির্বাচনী প্রচারে জাতীয় বা রাজ্যস্তরের বড় রাজনৈতিক ইস্যুর পরিবর্তে স্থানীয় সমস্যা—পানীয় জলের সংকট, রাস্তার উন্নয়ন এবং সামাজিক ভাতা-র মতো বিষয়গুলিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
মনোনয়ন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই আসন সমঝোতা সংক্রান্ত অবশিষ্ট সমস্যাগুলিও মিটে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন বিদ্যুৎমন্ত্রী।