আগরতলা, ২৪ আগস্ট: স্পাইনাল মাসকুলার অ্যাট্রোফি (SMA)-তে আক্রান্ত ত্রিপুরার ২৩ মাসের শিশু মানশ্রী চৌধুরী বর্তমানে দিল্লির AIIMS-এ চিকিৎসাধীন। জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসার জন্য প্রায় ১৬ কোটি টাকা প্রয়োজন হওয়ায় বিপুল অর্থ সংগ্রহে মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তার পরিবার।
মানশ্রীর বাবা ধ্রুব চৌধুরী সোমবার জানান, AIIMS-এ চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় চুক্তিপত্রে ইতিমধ্যেই স্বাক্ষর করা হয়েছে। রবিবার মানশ্রীর রক্তের নমুনাও সংগ্রহ করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার রিপোর্ট পেতে সাধারণত ৮ থেকে ১০ দিন সময় লাগলেও চিকিৎসকের বিশেষ অনুরোধে তা ৪ থেকে ৫ দিনের মধ্যে পাওয়ার চেষ্টা চলছে। রিপোর্ট হাতে আসার পর আরও একটি চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করতে হবে বলে জানান তিনি।
ধ্রুববাবু বলেন, চিকিৎসক দ্রুত প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা করার পরামর্শ দিয়েছেন। ফলে সময় যত গড়াচ্ছে, ততই উদ্বেগ বাড়ছে পরিবারের। এই পরিস্থিতিতে ত্রিপুরার সাধারণ মানুষের কাছে মানশ্রীর চিকিৎসার জন্য দ্রুত আর্থিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
ধ্রুব চৌধুরীর আবেদন, সামর্থ্য অনুযায়ী যে যেভাবে পারেন, দ্রুত মানশ্রীর পাশে দাঁড়ান। তাঁর কথায়, মানুষের সামান্য সহযোগিতাও এই মুহূর্তে তাঁদের কাছে মানশ্রীর জীবনের আশার আলো হয়ে উঠতে পারে। মানশ্রীর জন্য সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়া সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছেন তিনি।
গত কয়েক মাস ধরে ত্রিপুরা-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মানশ্রীর চিকিৎসার জন্য অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ চলছে। পরিবারের সদস্য ও শুভানুধ্যায়ীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি বিভিন্ন মাধ্যমে মানুষের কাছে সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছেন।
এদিকে, গত ১৯ আগস্ট ধ্রুব চৌধুরী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিডনি প্রতিস্থাপন আইনিভাবে করা হয় এমন হাসপাতালের বিষয়ে তথ্য জানতে চেয়ে একটি পোস্ট করেছিলেন। সেই পোস্টকে ঘিরে নানা জল্পনা তৈরি হলেও, পোস্টটিতে তিনি কেন এই তথ্য জানতে চেয়েছিলেন তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি।
মানশ্রীর পরিবার একটি মধ্যবিত্ত পরিবার হওয়ায় প্রায় ১৬ কোটি টাকার বিপুল চিকিৎসা ব্যয় বহন করা তাদের পক্ষে অত্যন্ত কঠিন। তাই ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলের সহযোগিতা চেয়েছে পরিবার। বলিউড অভিনেতা সোনু সুদ এবং সমাজকর্মী হুসেন মনসুরির কাছেও সাহায্যের আবেদন জানানো হয়েছে। সম্প্রতি হুসেন মনসুরি মানশ্রীদের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন এবং চিকিৎসার জন্য ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা করেন।
বর্তমানে AIIMS-এ চিকিৎসাধীন মানশ্রীর চিকিৎসা এগিয়ে নিতে দ্রুত অর্থের প্রয়োজন। তাই সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তহবিল সংগ্রহে নেমেছে পরিবার। মানশ্রীর চিকিৎসার জন্য মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতাই এখন পরিবারের কাছে সবচেয়ে বড় ভরসা।