আগরতলা, ২৪ আগস্ট: নেশামুক্ত ভারত অভিযান, জনগণনা ২০২৭ এবং ‘১২ বছরের আস্থা, উন্নয়ন ও জনকল্যাণ’—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে সামনে রেখে ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই দিনব্যাপী ইন্টিগ্রেটেড কমিউনিকেশন অ্যান্ড আউটরিচ প্রোগ্রাম (ICOP) শুরু করল কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের অধীন সেন্ট্রাল ব্যুরো অব কমিউনিকেশন (CBC), আগরতলা ফিল্ড অফিস।
সোমবার ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে আয়োজিত এই কর্মসূচির প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক সমীর কুমার শীল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিপাহিজলা জেলার ADM ও কালেক্টর (PP) সুভাষ দত্ত, ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ইন্দ্রনীল ভৌমিক এবং ডেপুটি রেজিস্ট্রার ড. ভ্যানলালমুয়ানা দারলং।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অধ্যাপক সমীর কুমার শীল CBC-এর এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থী ও সমাজের বৃহত্তর স্বার্থে সচেতনতামূলক কর্মসূচিকে বিশ্ববিদ্যালয় সবসময় স্বাগত জানায়। নেশামুক্ত ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। একইসঙ্গে পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের লক্ষ্যে মনোনিবেশ করার পরামর্শ দেন। শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করে তিনি বলেন, ‘ইচ্ছাশক্তি থাকলে পথ বের হয়।’
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সুভাষ দত্ত নেশামুক্ত ভারত অভিযান, জনগণনা ২০২৭ এবং ‘১২ বছরের আস্থা, উন্নয়ন ও জনকল্যাণ’-এর গুরুত্ব তুলে ধরেন। মাদকাসক্তির ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন হওয়ার পাশাপাশি সুস্থ ও দায়িত্বশীল সমাজ গঠনে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ইন্দ্রনীল ভৌমিকও শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে দূরে থেকে পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ গঠনে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।
কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্বে তিনটি মূল বিষয়কে কেন্দ্র করে একটি বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। দর্শন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. সিন্ধু পাউডিয়াল এবং গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. শৌভিক ভট্টাচার্য শিক্ষার্থীদের সামনে বিষয়গুলি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন এবং তাঁদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পাশাপাশি একটি উন্মুক্ত কুইজ প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
কর্মসূচির তৃতীয় পর্বে করিমগঞ্জ, অসমের একটি বেসরকারি নিবন্ধিত সাংস্কৃতিক দল ‘সপ্তর্ষি কলা কেন্দ্র’-এর শিল্পীরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন। ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও গানের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
দুই দিনের এই কর্মসূচিতে ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ, দর্শন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ইতিহাস, সংস্কৃত, ভাষাবিজ্ঞান ও উপজাতীয় ভাষা, শারীরিক শিক্ষা এবং লিবারেল আর্টস বিভাগের গবেষক ও শিক্ষার্থীরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
নেশামুক্ত সমাজ গঠন, জনগণনা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সরকারি জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ সম্পর্কে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তথ্যভিত্তিক সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যেই এই ধরনের সমন্বিত প্রচার ও জনসংযোগ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।