স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের আয় বৃদ্ধিতে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সমন্বয়ে জোর
আগরতলা, ২১ আগস্ট: আগামী ২০২৮-২৯ অর্থবর্ষের মধ্যে ত্রিপুরায় ৩.৫০ লক্ষ মহিলাকে ‘লাখপতি দিদি’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে রাজ্য সরকার। গ্রামীণ মহিলাদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করে তুলতে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প ও কর্মসূচির সমন্বয়ে এই লক্ষ্য পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
শুক্রবার গ্রামীণ উন্নয়ন দপ্তরের সচিবের সভাপতিত্বে রাজ্যস্তরের ‘লাখপতি দিদি’ স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে এই লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে ত্রিপুরা রুরাল লাইভলিহুড মিশনের (TRLM) মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক (CEO), TRLM-এর পদস্থ আধিকারিক এবং রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে ত্রিপুরায় ‘লাখপতি দিদি’ উদ্যোগের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি প্রকল্পের কার্যকর বাস্তবায়ন, সম্প্রসারণ এবং আরও শক্তিশালী করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হয়।
বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের মধ্যে আরও বেশি সমন্বয় গড়ে তুলে ‘লাখপতি দিদি’ কর্মসূচিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। গ্রামীণ উন্নয়ন দপ্তরের সচিব ২০২৮-২৯ অর্থবর্ষ পর্যন্ত এই কর্মসূচির ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরেন। বিভিন্ন দপ্তরের পরিকল্পনা ও প্রকল্পকে সমন্বিতভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে ৩.৫০ লক্ষ মহিলাকে ‘লাখপতি দিদি’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৈঠকে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত মহিলাদের জন্য আরও বেশি জীবিকাভিত্তিক সুযোগ তৈরি এবং স্থায়ী আয়ের পথ সুগম করার ওপর জোর দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা সহজে পাওয়া এবং বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের বিষয়েও আলোচনা হয়।
‘লাখপতি দিদি’ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল গ্রামীণ মহিলাদের এমনভাবে স্বনির্ভর করে তোলা, যাতে তাঁদের পরিবারের বার্ষিক আয় একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে পৌঁছায় এবং তাঁরা স্থায়ীভাবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন। এর মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি মহিলা নেতৃত্বাধীন জীবিকা ও স্বনির্ভরতার প্রসার ঘটানোই এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।
বৈঠকে লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলির মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয় এবং নিয়মিত অগ্রগতি পর্যালোচনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ত্রিপুরায় ৩.৫০ লক্ষ ‘লাখপতি দিদি’ তৈরির লক্ষ্য পূরণে সমন্বিতভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।