বিশালগড়, ৮ আগস্ট: দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠা এক ব্যক্তিকে আটক করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ছেড়ে দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিশালগড় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাউথখলা এলাকার বাসিন্দা প্রেমতোষ রায় ওরফে প্রান্তোষের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি চুরি, চোরাই সামগ্রী ক্রয়-বিক্রয় এবং চুরি করা সোনা, মোবাইল ও বাইক বন্ধক রেখে মাদক কেনাবেচার অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা ও মামলার বর্তমান অবস্থান সরকারি ভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শুক্রবার বিশালগড় থানার ওসি ইন্সপেক্টর বিজয় দাসের নেতৃত্বে সাদা পোশাকের পুলিশের একটি দল অফিসটিলা এলাকার কৌটাপাড়া থেকে প্রান্তোষকে আটক করে বলে জানা গেছে। তাকে আটক করার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় স্বস্তি দেখা দেয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদকসংক্রান্ত সমস্যায় সাধারণ মানুষ ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।
তবে অভিযোগ, আটক করার পর সন্ধ্যার মধ্যেই তাকে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কী কারণে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনও বক্তব্য জানা যায়নি। ফলে পুলিশের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এদিকে, প্রান্তোষের বিরুদ্ধে পুলিশের একাংশের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বোঝাপড়ার অভিযোগও তুলেছেন স্থানীয়দের কেউ কেউ। অতীতেও তাকে আটক করার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। যদিও পুলিশের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের এই অভিযোগের কোনও স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং পুলিশও এ বিষয়ে কোনও বক্তব্য দেয়নি।
এছাড়াও প্রান্তোষের স্ত্রীর বিরুদ্ধেও মাদক কারবারে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। সম্প্রতি নাবালিকা অপহরণের একটি ঘটনায় তার স্ত্রীকে সোনামুড়া পুলিশ আটক করেছিল বলেও জানা গেছে। তবে ওই ঘটনার সঙ্গে প্রান্তোষের সরাসরি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের সত্যতা সরকারি ভাবে নিশ্চিত নয়।
একাধিক অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও আটক করার পর দ্রুত ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে। পাশাপাশি মাদক কারবারের অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
