আগরতলা, ৮ আগস্ট: কমনওয়েলথ গেমসে ঐতিহাসিক সোনা জয়ের কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন বিতর্কের মুখে পড়েছেন ত্রিপুরার জুডোকা অস্মিতা। উত্তরপ্রদেশ সরকারের ঘোষিত দেড় কোটি টাকার আর্থিক পুরস্কার পাওয়ার ক্ষেত্রে তিনি আদৌ যোগ্য কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।
উত্তরপ্রদেশ সরকার ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে প্রকাশিত একটি নির্দেশিকায় জানিয়েছিল, কমনওয়েলথ গেমসে স্বর্ণপদক জয়ী উত্তরপ্রদেশের ক্রীড়াবিদদের দেড় কোটি টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। তবে এই পুরস্কার পাওয়ার জন্য তিনটি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে।
নির্দেশিকা অনুযায়ী, ক্রীড়াবিদকে উত্তরপ্রদেশের স্থায়ী বাসিন্দা (Bonafide Domicile) হতে হবে, রাজ্যের স্বীকৃত কোনও কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তত দুই বছর পড়াশোনা করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় উত্তরপ্রদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে হবে।
অস্মিতার ক্ষেত্রে বিতর্কের মূল কারণ প্রথম দুটি শর্ত। তিনি ত্রিপুরার বাসিন্দা হওয়ায় উত্তরপ্রদেশের স্থায়ী বাসিন্দার শর্ত পূরণ করেন না এবং রাজ্যের কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুই বছর পড়াশোনাও করেননি। তবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরের জুডো প্রতিযোগিতায় তিনি উত্তরপ্রদেশের প্রতিনিধিত্ব করে আসছেন, ফলে তৃতীয় শর্তটি পূরণ করেছেন।
এদিকে, উত্তরপ্রদেশের ক্রীড়া অধিকর্তা আর.পি. সিং জানিয়েছেন, গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে পদকজয়ী ও অংশগ্রহণকারী সব ক্রীড়াবিদের তালিকা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। সেই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই কারা রাজ্য সরকারের আর্থিক পুরস্কারের জন্য যোগ্য, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ফলে কমনওয়েলথ গেমসে জুডোয় ভারতের হয়ে ঐতিহাসিক স্বর্ণপদক জয়ী অস্মিতা উত্তরপ্রদেশ সরকারের ঘোষিত দেড় কোটি টাকার পুরস্কার পাবেন কি না, তা এখনও অনিশ্চিত। বিষয়টি নিয়ে ক্রীড়ামহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
