উদয়পুর, ১ অক্টোবর: ঐতিহাসিক মাতা ত্রিপুরেশ্বরী মন্দিরকে ঘিরে একাধিক উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে রাজ্য সরকার। মন্দিরের পরিকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, দর্শনার্থীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং মন্দিরকেন্দ্রিক স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে একাধিক সিদ্ধান্ত ও প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার গোমতী জেলার উদয়পুর সার্কিট হাউসের কনফারেন্স হলে মাতা ত্রিপুরেশ্বরী মন্দির ট্রাস্টের অষ্টম বৈঠকে যোগ দেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই বিষয়গুলি জানান মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ত্রিপুরেশ্বরী মন্দির ত্রিপুরার পরিচয়ের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। গোটা দেশে ত্রিপুরা বললেই এই মন্দিরের কথা উঠে আসে।” তাই মন্দিরটিকে আরও আকর্ষণীয় ও দর্শনার্থীবান্ধব করে তুলতে সরকার একাধিক পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানান তিনি।

মন্দিরের দৈনন্দিন পরিষেবা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আরও কর্মী প্রয়োজন বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। ইতিমধ্যেই কিছু কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে এবং আগামী দিনে আরও কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
মন্দিরকে কেন্দ্র করে জীবিকা নির্বাহকারী মানুষদের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। পরিবহণের সঙ্গে যুক্ত মানুষ থেকে শুরু করে ঐতিহ্যবাহী পেড়া প্রস্তুতকারকদের আর্থ-সামাজিকভাবে আরও সহায়তা করার পরিকল্পনা রয়েছে। ত্রিপুরেশ্বরী মন্দিরের পেড়া জিআই তকমা পাওয়ায় এর স্বতন্ত্র পরিচয়কে আরও তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একইসঙ্গে রাজ্যের বাইরে থেকে আসা দর্শনার্থীদের কাছে মন্দির ও ত্রিপুরার ইতিহাস তুলে ধরতে বই ও বিভিন্ন তথ্যসামগ্রী দেওয়ার বিষয়েও চিন্তাভাবনা চলছে।

নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও নেওয়া হয়েছে নতুন উদ্যোগ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাম্প্রতিক ত্রিপুরা সফরের সময় দেওয়া পরামর্শ অনুযায়ী মন্দিরে নতুন ছয়টি দানবাক্স তৈরি করে বসানো হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। মন্দিরের চারপাশে বর্তমানে সীমানা প্রাচীর না থাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নান্দনিক ও নিরাপদ গ্রিলের বেড়া দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
আসন্ন ত্রিপুরেশ্বরী মেলার আয়োজনেও থাকছে নতুন চমক। মন্দির সংলগ্ন কল্যাণ সাগর সংস্কারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যদিও পুজোর আগেই পুরো কাজ শেষ করা সম্ভব নাও হতে পারে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

এবার মেলায় বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে ড্রোন শো ও আলোকসজ্জার বিশেষ অনুষ্ঠান। পাশাপাশি রাজ্যের বাইরের সাংস্কৃতিক দলগুলিকেও মেলায় অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা রয়েছে। গত বছর উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক দল অংশ নিয়েছিল। এবার পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের সাংস্কৃতিক দলগুলিকে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
বৈঠকে দূষণ নিয়ন্ত্রণ, পার্কিং ব্যবস্থা এবং মন্দিরে যাওয়ার অ্যাপ্রোচ রোড নিয়েও আলোচনা হয়েছে। লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে বিভিন্ন জায়গায় পেড়া বিক্রি করা বিক্রেতাদের জন্য আরও বড় একটি নির্দিষ্ট জায়গা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এর সঙ্গে উন্নত পার্কিং ব্যবস্থাও গড়ে তোলা হবে।
অ্যাপ্রোচ রোড নির্মাণের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন এমন এক বা দুইটি পরিবারকে পুনর্বাসনের বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, এই উদ্যোগ ইতিবাচক পদক্ষেপ।
এদিকে পুজোর আগে যুব কর্মচারীদের জন্য কোনও বড় ঘোষণা আসতে পারে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী জানান, “সময় হলে সরকার নিজেই ঘোষণা করবে।”