আগরতলা, ২১ সেপ্টেম্বর: শারদোৎসবের প্রতিমা বিসর্জন কার্নিভাল **‘মায়ের গমন’**কে শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন করতে আগরতলার মুক্তধারা হলে অনুষ্ঠিত হলো গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতিমূলক বৈঠক। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা, আগরতলা পুর নিগমের মেয়র তথা বিধায়ক দীপক মজুমদার-সহ বিভিন্ন দফতরের পদস্থ আধিকারিকরা। বৈঠকে ‘মায়ের গমন’কে ঘিরে নিরাপত্তা, যান চলাচল, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ, জরুরি পরিষেবা এবং ক্লাবগুলির সঙ্গে প্রশাসনের সমন্বয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা বলেন, ‘মায়ের গমন’ এখন রাজ্য ও আগরতলা শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। সমস্ত ক্লাব, সমাজসেবী সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে এই অনুষ্ঠান যাতে শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে সম্পন্ন হয়, তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী ডিজে এবং অতিরিক্ত শব্দদূষণ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার বিষয়েও স্পষ্ট বার্তা দেন। উচ্চ শব্দের কারণে প্রবীণ, শিশু ও অসুস্থ ব্যক্তিদের শারীরিক ও মানসিক সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি পুজো উদ্যোক্তা ও সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।
জরুরি পরিষেবায় গ্রিন করিডোর
বিসর্জনের দিন বিপুল মানুষের সমাগমের মধ্যেও যাতে অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি পরিষেবার যানবাহন নির্বিঘ্নে হাসপাতালে পৌঁছাতে পারে, তার জন্য বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা এবং ‘গ্রিন করিডোর’ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। জরুরি পরিষেবার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা যাতে তৈরি না হয়, সেদিকেও বিশেষ নজর দেওয়ার কথা বলেন তিনি।
নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বৈদ্যুতিক তারের নিরাপত্তা, গাছের ডালপালা পরিষ্কার বা প্রয়োজনীয় ক্লিয়ারেন্স এবং সিসিটিভি নজরদারি জোরদার করার ওপরও গুরুত্ব দেন মুখ্যমন্ত্রী। বিসর্জনের শোভাযাত্রার পথে সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়গুলি আগেভাগে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়।
ক্লাবগুলির সুবিধায় ‘ওয়ান উইন্ডো’ ক্যাম্প
পুজো কমিটি ও ক্লাবগুলির বিভিন্ন অনুমোদন দ্রুত সম্পন্ন করতে জোনভিত্তিক ‘ওয়ান উইন্ডো’ ক্যাম্প পুনরায় সক্রিয় করার নির্দেশনাও দেন মুখ্যমন্ত্রী। একাধিক দফতরে ঘুরে অনুমতি নেওয়ার পরিবর্তে সমন্বিতভাবে পরিষেবা দেওয়ার মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের হয়রানি ও সময় দুটোই কমানোর লক্ষ্য রয়েছে এই ব্যবস্থার।
এদিকে ‘মায়ের গমন’কে রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং পর্যটন আকর্ষণ হিসেবে তুলে ধরার ওপরও গুরুত্ব দেন মুখ্যমন্ত্রী। এর জন্য তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর (ICA) এবং পর্যটন দফতরকে সামাজিক মাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারের পরামর্শ দেন তিনি।