রাজ্যের বেকারত্ব, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বিদ্যুৎ পরিষেবার সমস্যা নিয়ে সরব হওয়ার ঘোষণা। রাজনৈতিক দলের বাইরে থেকে চাপ সৃষ্টিকারী মঞ্চ হিসেবে কাজ করার দাবি সংগঠনের।
আগরতলা, ৪ নভেম্বর: রাজধানী দিল্লির বাইরে এবার উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে সাংগঠনিক বিস্তারের উদ্যোগ নিয়েছে ককরোজ জনতা পার্টি (CJP)। ত্রিপুরায় সংগঠনের ভিত্তি মজবুত করার পাশাপাশি যুবসমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে বিভিন্ন জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে আন্দোলন গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সংগঠনটি। সেই লক্ষ্যেই বুধবার আগরতলা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে ত্রিপুরা শাখা।
সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের নেতা শাহিদ এবং মণিপুর থেকে আগত নেতা নূর শাহ। এছাড়াও ত্রিপুরায় সংগঠনের দায়িত্বে থাকা শুভম, প্রণব, অপ্রজিত-সহ একাধিক স্বেচ্ছাসেবক উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শাহিদ জানান, শুধু ত্রিপুরা নয়, উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যান্য রাজ্যেও সংগঠনের কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে যোগাযোগ ও আলোচনা চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় ত্রিপুরায় এসে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে সাংগঠনিক বৈঠক করা হয়েছে। রাজ্যের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত সংগঠনের কার্যক্রম পৌঁছে দেওয়া এবং সাধারণ মানুষের সমস্যাগুলিকে সামনে আনার কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তিনি জানান, ত্রিপুরায় বেকারত্বের সমস্যা, স্বাস্থ্য পরিষেবার দুর্বলতা, শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা এবং বিদ্যুৎ সংক্রান্ত সমস্যার মতো একাধিক বিষয় রয়েছে। বিশেষ করে ছাত্রছাত্রী ও যুবসমাজের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে সংগঠিতভাবে আওয়াজ তোলার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। যুবকদের এক ছাতার নিচে এনে জনস্বার্থে শক্তিশালী আন্দোলন গড়ে তোলাই সংগঠনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
সংগঠনের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করতে গিয়ে শাহিদ দাবি করেন, ককরোজ জনতা পার্টি কোনও রাজনৈতিক দলের শাখা সংগঠন নয়। এটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক চাপ সৃষ্টিকারী মঞ্চ হিসেবে কাজ করবে। রাজ্যের ক্ষমতায় যে দলই থাকুক না কেন, সংবিধান মেনে প্রশাসন পরিচালনা এবং জনগণের কাছে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবিতে সংগঠন সরব থাকবে।
আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ত্রিপুরা ইউনিটের পূর্ণাঙ্গ সাংগঠনিক কাঠামো এবং ভবিষ্যৎ কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদমাধ্যমের সামনে সংগঠনের পরবর্তী পরিকল্পনা তুলে ধরা হবে।
রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে নতুন এই সংগঠন কতটা প্রভাব বিস্তার করতে পারে, তা নিয়ে এখন থেকেই কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যুবসমাজকে সংগঠিত করে জনস্বার্থের বিভিন্ন ইস্যুতে কতটা কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে ককরোজ জনতা পার্টি, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।