চাকরি ছাড়ার প্রায় তিন মাস পরেও বকেয়া পাওনা অধরা, ছেলের উচ্চশিক্ষাও অনিশ্চিত অর্থাভাবে
আগরতলা, ৩ নভেম্বর: দীর্ঘ ৩২ বছরের কর্মজীবনের অবসান ঘটলেও প্রাপ্য গ্র্যাচুইটির টাকা হাতে পাননি এক চা শ্রমিক। বকেয়া পাওনা আদায়ের জন্য একাধিকবার বাগান কর্তৃপক্ষ থেকে শুরু করে শ্রম দপ্তরের দ্বারস্থ হয়েও কোনও সমাধান না মেলায় চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে দিন কাটছে সাব্রুম মহকুমার ছোট খিল বাজার সংলগ্ন লীলাঘর চা বাগানের প্রাক্তন শ্রমিক শিবু প্রসাদ নাথের।
অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘ ৩২ বছর নিষ্ঠার সঙ্গে লীলাঘর চা বাগানে কাজ করার পর শারীরিক অসুস্থতার কারণে গত ৩১ আগস্ট কর্মজীবন থেকে অব্যাহতি নেন তিনি। কিন্তু চাকরি ছাড়ার পর প্রায় তিন মাস অতিক্রান্ত হলেও এখনও পর্যন্ত গ্র্যাচুইটির কোনও অর্থ পাননি। অথচ তাঁর দাবি, এর আগে একই বাগানের আরও তিনজন শ্রমিক চাকরি ছাড়ার পর মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁদের সমস্ত প্রাপ্য টাকা মিটিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তাহলে তাঁর ক্ষেত্রে কেন এই দীর্ঘসূত্রতা, সেই প্রশ্নই তুলেছেন তিনি।
শুধু গ্র্যাচুইটির টাকা আটকে থাকাই নয়, এর প্রভাব পড়েছে তাঁর পরিবারের ভবিষ্যতের উপরও। শিবু প্রসাদ নাথের এক ছেলে বিজ্ঞান বিভাগে ৮৩ শতাংশ নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে। কিন্তু আর্থিক অনটনের কারণে মেধাবী ছেলের পড়াশোনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন তিনি।
চা বাগানের বর্তমান দায়িত্বে রয়েছেন জীবন রায় এবং প্রশাসনিক দায়িত্বে রয়েছেন হরলাল দাস বলে জানান ওই শ্রমিক। তাঁদের অধীনেই বর্তমানে বাগানের কাজকর্ম পরিচালিত হচ্ছে। তাঁর আরও অভিযোগ, শুধু গ্র্যাচুইটি নয়, শ্রমিকদের বোনাস ও অন্যান্য আর্থিক সুযোগ-সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন সময় জটিলতা তৈরি হয়। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ২৩ শতাংশ বোনাস পাওয়ার কথা থাকলেও অতীতে শ্রমিকদের তার চেয়ে কম বোনাস দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
প্রাপ্য গ্র্যাচুইটির টাকা পাওয়ার আশায় একাধিকবার শ্রম দপ্তর ও চা বাগান কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে পাননি শিবু প্রসাদ নাথ। ফলে দীর্ঘদিনের শ্রমের বিনিময়ে অর্জিত পাওনা আদায় করতে গিয়ে এখন তাঁকে কার্যত অসহায় পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
এই অবস্থায় সংশ্লিষ্ট শ্রম দপ্তর ও বাগান কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তিনি। দ্রুত তাঁর বকেয়া গ্র্যাচুইটির টাকা মিটিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি শ্রমিকদের অন্যান্য পাওনা সংক্রান্ত অভিযোগগুলিও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। এখন দেখার, ৩২ বছরের শ্রমের প্রাপ্য অধিকার আদায়ে প্রশাসন কত দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে।