১৫ থেকে ২০ দিন অন্তর কালামচৌড়া থানা এলাকায় কেন ঘটছে একই ধরনের ঘটনা? সীমান্তে পাচারচক্রের পেছনে শাসক দলের নেতাদের মদতের অভিযোগ বিরোধী দলনেতার। নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি।
আগরতলা, ৩ নভেম্বর : সিপাহীজলা জেলার বক্সনগরের আশাবাড়িতে বিএসএফ জওয়ানদের উপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানালেন বিরোধী দলনেতা তথা সিপিআই(এম)-এর রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী। একই সঙ্গে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সোনামুড়া-কালামচৌড়া সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলা কথিত পাচারচক্রের কার্যকলাপ নিয়ে রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
মঙ্গলবার এই ঘটনা প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ত্রিপুরায় এসে বিএসএফ জওয়ানরা সীমান্ত সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। কথিত পাচারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর সময় তাঁদের উপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এই ধরনের আক্রমণের কোনওভাবেই সমর্থন করা যায় না এবং তিনি এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন।
তবে ঘটনার সময় এক নিরীহ যুবককেও মারধর করা হয়েছে বলে স্থানীয় কিছু বাসিন্দার তরফে যে অভিযোগ উঠেছে, সেটিও গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখার দাবি জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, কারও বিরুদ্ধে অন্যায় হয়ে থাকলে তার তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু সেই অভিযোগের অজুহাতে ইউনিফর্ম পরিহিত নিরাপত্তারক্ষীদের উপর হামলার কোনও যুক্তি থাকতে পারে না।
এদিন সীমান্ত এলাকায় বারবার একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর অভিযোগ, কালামচৌড়া থানা এলাকায় প্রতি ১৫ থেকে ২০ দিন অন্তর এ ধরনের ঘটনা সামনে আসছে। রাজ্যের অন্যান্য সীমান্তবর্তী এলাকায় এত ঘন ঘন এই ধরনের ঘটনা শোনা যায় না। তাহলে কালামচৌড়া এলাকাতেই কেন বারবার এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে, তা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানান তিনি।
জিতেন্দ্র চৌধুরীর অভিযোগ, সোনামুড়া ও কালামচৌড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই সংগঠিত পাচারচক্র সক্রিয় রয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত কিছু ব্যক্তি শাসক দলের নেতাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় পাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, মাঝেমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হলেও পরবর্তী সময়ে তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ায় তেমন উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায় না।
এমনকি পাচারের সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজনদের নাম এফআইআরে নথিভুক্ত হলে পুলিশ আধিকারিকদের উপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা হয় বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। আগরতলা ও সোনামুড়ার বিভিন্ন মহল থেকে ফোন করে তদন্তের গতিপথ প্রভাবিত করার চেষ্টা চলে বলে দাবি করেন বিরোধী দলনেতা। গাঁজা, সোনা-সহ বিভিন্ন পাচার সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনাতেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর চেষ্টা হয় বলে অভিযোগ তাঁর।
তিনি আরও বলেন, কথিত পাচারচক্রের কার্যকলাপের কারণে সাধারণ মানুষও নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। তাঁদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও জীবিকা ব্যাহত হচ্ছে। এই বেআইনি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বিভাজন ভুলে সমস্ত স্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার বারবার ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জিতেন্দ্র চৌধুরী। তাঁর বক্তব্য, কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে একই ধরনের ঘটনা বারবার ঘটছে। ফলে সরকারের ঘোষণার সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির মিল কোথায়, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
সবশেষে বক্সনগরের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, কথিত পাচারচক্রের মূল শিকড় চিহ্নিত করে তা ভেঙে দেওয়া এবং রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী।