Home আগরতলাজাতীয় ঐক্য ও সংহতি রক্ষায় সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার

জাতীয় ঐক্য ও সংহতি রক্ষায় সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার

by Debasish
0 comments 1 views

আগরতলা, ৩১ অক্টোবর: দেশের ঐক্য, সংহতি, অখণ্ডতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানালেন মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ মানিক সাহা। ভারতের লৌহমানব সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের আদর্শ ও দেশ গঠনে তাঁর অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জাতীয় ঐক্য ও সংহতি রক্ষা করা প্রত্যেক নাগরিকের সম্মিলিত দায়িত্ব।

শনিবার আগরতলার স্বামী বিবেকানন্দ ময়দানে রাষ্ট্রীয় একতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন। সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের ১৫১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠান শেষে স্বামী বিবেকানন্দ ময়দান থেকে উমাকান্ত অ্যাকাডেমি পর্যন্ত আয়োজিত হয় একতা দৌড়। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ এতে অংশগ্রহণ করেন।

সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৪৭ থেকে ১৯৪৯ সালের মধ্যে প্রায় ৫৬৫টি দেশীয় রাজ্যকে ভারতীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সংযুক্ত করার ক্ষেত্রে প্যাটেলের ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক। স্বাধীনতার পর দেশের ঐক্য ও অখণ্ডতা বজায় রাখতে তাঁর দৃঢ় সংকল্প এবং দূরদর্শী নেতৃত্ব বিশেষ ভূমিকা পালন করেছিল। দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় তাঁর অবদান ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

তিনি আরও বলেন, ২০১৪ সাল থেকে প্রতি বছর ৩১ অক্টোবর সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের আদর্শকে স্মরণ করে রাষ্ট্রীয় একতা দিবস পালন করা হচ্ছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের মানুষের মধ্যে জাতীয় ঐক্য, সংহতি, দেশপ্রেম ও নিরাপত্তার চেতনা আরও শক্তিশালী করে তোলা।

দেশের বৈচিত্র্যের প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতে বিভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জীবনধারার মানুষ বসবাস করেন। কিন্তু সকলের পরিচয় একটাই—আমরা ভারতীয়। বৈচিত্র্যের মধ্যেই ঐক্যই ভারতের প্রকৃত শক্তি। এই ঐক্যবদ্ধ পরিচয়কে সুরক্ষিত রাখতে প্রত্যেককে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

রাষ্ট্রীয় একতা দিবস উপলক্ষে ত্রিপুরা পুলিশের উদ্যোগে গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচিরও প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, এই ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে সর্দার প্যাটেলের দেশপ্রেম, জাতীয় ঐক্য এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার আদর্শ সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।

শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে দেশের ঐক্য, অখণ্ডতা ও নিরাপত্তা রক্ষায় নিজেদের উৎসর্গ করার পাশাপাশি এই বার্তা দেশের প্রতিটি নাগরিকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানের আয়োজনে যুক্ত সকলকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি রাজ্যবাসীকে রাষ্ট্রীয় একতা দিবসের শুভেচ্ছা জানান তিনি। বক্তব্যের শেষে ‘জয় হিন্দ’ ও ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগানের মাধ্যমে দেশপ্রেম ও জাতীয় ঐক্যের বার্তা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।

You may also like

Leave a Comment