১০×৮ সেন্টিমিটারের বিশাল টিউমার অপসারণের পাশাপাশি বসানো হল মেগাপ্রস্থেসিস, আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে মিলল সম্পূর্ণ চিকিৎসা পরিষেবা
আগরতলা, ২৯ অক্টোবর: চিকিৎসাক্ষেত্রে আরও এক উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করল আগরতলার জিবি হাসপাতাল। দীর্ঘ প্রায় এক বছর ধরে হাঁটুর জটিল সমস্যায় শয্যাশায়ী দক্ষিণ ত্রিপুরার ৩৩ বছর বয়সি এক মহিলার বিরল ও জটিল অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন করলেন হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিভাগের চিকিৎসকরা। জায়ান্ট সেল টিউমার (GCT) নামে পরিচিত একটি বড় আকারের টিউমার অপসারণের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হাড়ের অংশে মেগাপ্রস্থেসিস প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনার (AB-PMJAY) আওতায় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই চিকিৎসা পরিষেবা পেয়েছেন ওই মহিলা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসাধীন মহিলার নাম শেফালি ত্রিপুরা। তিনি দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার করবুক এলাকার বাসিন্দা এবং বুরবারায় ত্রিপুরার স্ত্রী। দীর্ঘদিন ধরে হাঁটুর জটিল সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। প্রায় এক বছর ধরে শয্যাশায়ী অবস্থায় দিন কাটাতে হচ্ছিল তাঁকে। প্রথমে হাঁপানিয়ার ত্রিপুরা মেডিক্যাল কলেজে তাঁর চিকিৎসা হয়। পরবর্তীতে তাঁকে অটল বিহারী আঞ্চলিক ক্যান্সার কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাঁকে আগরতলার এজিএমসি ও জিবি হাসপাতালে রেফার করা হয়।
গত ১০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে জিবি হাসপাতালের অর্থোপেডিক জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট বিভাগে ভর্তি করা হয় শেফালি ত্রিপুরাকে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের বিশেষ অনুমোদন নিয়ে গত ১৫ অক্টোবর তাঁর অস্ত্রোপচার করা হয়।
প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলে এই জটিল অস্ত্রোপচার। চিকিৎসকরা জানান, রোগীর হাঁটুর কাছে থাকা প্রায় ১০×৮ সেন্টিমিটার আকারের বিশাল টিউমারটি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করা হয়। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত টিবিয়া বা পায়ের নিচের অংশের বড় হাড়ের আক্রান্ত অংশ প্রতিস্থাপন করে মেগাপ্রস্থেসিস বসানো হয়। অস্ত্রোপচারের পর রোগীর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয় এবং পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকায় গত ২১ অক্টোবর তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এই জটিল অস্ত্রোপচারে নেতৃত্ব দেন জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট সার্জন চিকিৎসক ডা. সায়ন্তন সাহা। তাঁকে সহযোগিতা করেন ডা. স্বরূপ সরকার। এছাড়াও চিকিৎসক ডা. অনুপম দেবনাথ, ডা. দীপেন রায় এবং ডা. অভিষেক মজুমদার অস্ত্রোপচারের দলে ছিলেন। অ্যানাস্থেসিওলজি বিভাগ থেকে দায়িত্ব পালন করেন ডা. ভাস্কর মজুমদার, ডা. ইন্দ্রজিৎ দাস এবং ডা. জয়দীপ দেবনাথ। তাঁদের পাশাপাশি অস্ত্রোপচার কক্ষের নার্সিং কর্মী ও অন্যান্য সহকারীরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের জটিল অস্ত্রোপচার ত্রিপুরায় তুলনামূলকভাবে বিরল। অতীতে এ ধরনের উন্নত চিকিৎসার জন্য অনেক রোগীকেই রাজ্যের বাইরে মেট্রোপলিটন শহরের বড় হাসপাতালে, এমনকি টাটা মেমোরিয়াল হাসপাতালের মতো প্রতিষ্ঠানে যেতে হত। বেসরকারি হাসপাতালে এই অস্ত্রোপচারের জন্য আনুমানিক ৫ থেকে ৬ লক্ষ টাকা খরচ হতে পারত।
কিন্তু আয়ুষ্মান ভারত প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনার আওতায় শেফালি ত্রিপুরার সম্পূর্ণ চিকিৎসা বিনামূল্যে হওয়ায় তাঁর পরিবার বড় ধরনের আর্থিক চাপ থেকে রক্ষা পেয়েছে।