Home ত্রিপুরাত্রিপুরার যুবককে বর্ণবিদ্বেষমূলক হেনস্তার অভিযোগ, দিল্লি পুলিশের জালে কনটেন্ট ক্রিয়েটর আমির শোকিন

ত্রিপুরার যুবককে বর্ণবিদ্বেষমূলক হেনস্তার অভিযোগ, দিল্লি পুলিশের জালে কনটেন্ট ক্রিয়েটর আমির শোকিন

by Debasish
0 comments 3 views

ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তীব্র ক্ষোভ, মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার হস্তক্ষেপের পর তৎপর পুলিশ

আগরতলা, ২২ অক্টোবর: ত্রিপুরার এক যুবককে বর্ণবিদ্বেষমূলক হেনস্তা ও প্রকাশ্যে অপমান করার অভিযোগে অবশেষে দিল্লি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলেন সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার তথা কনটেন্ট ক্রিয়েটর আমির শোকিন। বৃহস্পতিবার দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে তাঁর গ্রেফতারের বিষয়টি জানানো হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ত্রিপুরা-সহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আমির শোকিনের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ১৯২, ১৯৬, ৩৫২ ও ৩৫৩ নম্বর ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। দাঙ্গায় প্ররোচনা, বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা ছড়ানো, ইচ্ছাকৃতভাবে অপমান এবং জনমনে অশান্তি সৃষ্টিকারী বক্তব্যের মতো অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত এই ধারাগুলি। তবে মামলার তদন্ত এখনও চলছে।

পুলিশের দাবি, গ্রেফতার এড়াতে বারবার নিজের অবস্থান পরিবর্তন করছিলেন অভিযুক্ত। শেষ পর্যন্ত দিল্লির করোলবাগ এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে আত্মগোপন করে থাকার সময় তাঁকে চিহ্নিত করা হয়। প্রযুক্তিগত নজরদারির সহায়তায় বুধবার গভীর সন্ধ্যায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয় বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে তদন্তে গতি

এই ঘটনায় ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. মানিক সাহার হস্তক্ষেপ বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ঘটনার খবর পাওয়ার পর তিনি দিল্লি পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং দ্রুত তদন্ত করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আবেদন জানান।

ত্রিপুরার পুলিশ মহানির্দেশক অনুরাগ সংবাদ সংস্থা ANI-কে জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হন। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে ত্রিপুরায় মামলা দায়ের করা হয় এবং তদন্তের স্বার্থে দিল্লি পুলিশের কাছে এফআইআর পাঠানো হয়। পাশাপাশি, দ্রুত পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে মুখ্যমন্ত্রী নিজেও দিল্লি পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

অন্যদিকে, এই ঘটনায় তদন্তের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে ত্রিপুরা পুলিশের পক্ষ থেকেও একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। দলটি দিল্লি পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করছে।

ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া

ঘটনার সূত্রপাত ইনস্টাগ্রামে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, ওই ভিডিওতে ত্রিপুরার এক যুবককে যৌন হেনস্তা, হয়রানি এবং অপমানজনক আচরণের শিকার হতে দেখা যায়। ত্রিপুরার এক ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টটি আমির শোকিনের বলে শনাক্ত করেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়তেই রাজ্যজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানুষের প্রতি বর্ণবিদ্বেষমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানায়।

কংগ্রেস নেতা বিরাজিৎ সিনহাও এই ঘটনায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। দিল্লি-সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ছাত্রছাত্রীদের বর্ণবিদ্বেষের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। সমস্যাটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার পাশাপাশি এর স্থায়ী সমাধানে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

আগেও মামলা ছিল অভিযুক্তের বিরুদ্ধে

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আমির শোকিনের বিরুদ্ধে এর আগেও ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩২৪ ও ৫০৬ ধারায় মামলা নথিভুক্ত হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। ওই ধারাগুলি স্বেচ্ছায় আঘাত করা, বিপজ্জনক অস্ত্রের সাহায্যে আঘাত এবং অপরাধমূলক ভয় দেখানোর অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত।

বর্তমানে ত্রিপুরার যুবককে হেনস্তার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। ভাইরাল ভিডিওর সত্যতা, ঘটনার সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট এবং অভিযুক্তের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানুষের প্রতি বর্ণবিদ্বেষমূলক আচরণের অভিযোগে দেশজুড়ে যখন প্রতিবাদের সুর জোরালো হচ্ছে, তখন এই ঘটনায় পুলিশের তদন্ত ও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের দিকে নজর রয়েছে সকলের।

You may also like

Leave a Comment