দিল্লি ও ত্রিপুরা পুলিশ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে, এক্স-এ বার্তা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর; বিতর্কের মুখে ক্ষমা চাইলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর
আগরতলা, ২২ অক্টোবর : ত্রিপুরার এক যুবককে জাতিগতভাবে হেনস্থা করার অভিযোগে এবার সরব হলেন কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। দিল্লির কনটেন্ট ক্রিয়েটর আমির শোকিনের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, দিল্লি ও ত্রিপুরা পুলিশ অভিযুক্তকে উপযুক্ত শিক্ষা দেবে। গত ২১ অক্টোবর সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্টের মাধ্যমে এই বার্তা দেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
রিজিজু তাঁর পোস্টে জানান, অভিযোগ দায়ের করতে কিছুটা দেরি হলেও অভিযুক্তকে তার পরিণতি ভোগ করতে হবে। একইসঙ্গে সমাজে এ ধরনের বিদ্বেষমূলক আচরণকে যারা প্রশ্রয় দেন, তাঁদেরও সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, সমাজে ঘৃণা ছড়ানোর ক্ষেত্রে এ ধরনের আচরণ সহ্য করে যাওয়া ব্যক্তিদেরও দায় রয়েছে।
উল্লেখ্য, দিল্লির কনটেন্ট ক্রিয়েটর আমির শোকিনের একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। ওই ভিডিওতে ত্রিপুরার এক যুবককে লক্ষ্য করে জাতিগতভাবে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়তেই উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে জাতিগত হেনস্থা, সাইবার বুলিং এবং রাজ্যের জনজাতি সম্প্রদায়কে অপমান করার অভিযোগে ত্রিপুরা পুলিশের কাছে অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে।
ঘটনাটি সামনে আসার পর ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশককে দিল্লি পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় রেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন। রাজনৈতিক মহলেও এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
এদিকে, বিতর্কের মুখে ফেসবুকে একটি ভিডিও প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন আমির শোকিন। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট ভিডিওটি পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়েছিল এবং পুরো বিষয়টি মজার ছলেই করা হয়েছিল। ভিডিওতে থাকা যুবক তাঁর পরিচিত বলেও দাবি করেন তিনি। আমিরের বক্তব্য, ওই যুবক আগে আহমেদাবাদে তাঁর এক বন্ধুর ক্যাফেতে কাজ করতেন এবং তাঁদের মধ্যে কথোপকথনটি নিছক হাসি-ঠাট্টার অংশ ছিল।
কোনও ব্যক্তি বা সম্প্রদায়কে অপমান করার উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না বলে দাবি করে আমির ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। বিশেষভাবে ত্রিপুরার মানুষের উদ্দেশে ক্ষমা চেয়ে তিনি বলেন, কারও মনে আঘাত দেওয়া তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না এবং তিনি সকলকে সম্মান করেন।