১০ আগস্টের সভায় উসকানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগে মামলা, প্রমাণ মিললে চার্জশিট জমা দিতে হবে পুলিশকে
আগরতলা, ১৩ অক্টোবর: প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সিপিআইএমের প্রবীণ নেতা মানিক সরকারের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর খারিজের আবেদন খারিজ করে দিল ত্রিপুরা হাইকোর্ট। মঙ্গলবার এই মামলায় আদালত আবেদনটি খারিজ করে দেওয়ায় পুলিশি তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার পথ খোলা রইল। তদন্তে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা প্রতিষ্ঠার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া গেলে চার্জশিট জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজ্য সরকারের পক্ষে আইনজীবী রাজু দত্ত।
ঘটনার সূত্রপাত চলতি বছরের ১০ আগস্ট। অভিযোগ, ওই দিন একটি রাজনৈতিক সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মানিক সরকার এমন কিছু মন্তব্য করেছিলেন, যা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে প্রবীর রায় নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১৬ আগস্ট পশ্চিম আগরতলা থানায় ১০৯/২০২৬ নম্বরে মামলা নথিভুক্ত করা হয়।
অভিযোগকারীর দাবি, মানিক সরকারের বক্তব্যে দেশ ও রাজ্যকে সশস্ত্র আন্দোলনের পথে ঠেলে দেওয়ার ইঙ্গিত ছিল। তাঁর আরও অভিযোগ, এই ধরনের মন্তব্য দেশের ও রাজ্যের সার্বভৌমত্বের পক্ষে ক্ষতিকর হতে পারে এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ ও অশান্তি সৃষ্টি করতে পারে।
এফআইআর দায়েরের পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। এরপর মামলাটি খারিজের আবেদন জানিয়ে ত্রিপুরা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের দ্বারস্থ হন মানিক সরকার। তাঁর আবেদনে দাবি করা হয়, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং তাঁর নামে যে বক্তব্যের কথা বলা হচ্ছে, তা থেকে কোনও আমলযোগ্য অপরাধের উপাদান পাওয়া যায় না।
তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ আদালতের
মামলায় মানিক সরকারের পক্ষে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী রাজু দত্ত।
রাজু দত্তের বক্তব্য অনুযায়ী, হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ মানিক সরকারের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। একই সঙ্গে তদন্তকারী আধিকারিককে যথাযথভাবে তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে পর্যাপ্ত প্রমাণ উঠে এলে আইন অনুযায়ী চার্জশিট জমা দিতে হবে।
আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে আপাতত মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। পুলিশ অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহ করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
তবে এফআইআর খারিজের আবেদন খারিজ হওয়ার অর্থ এই নয় যে মানিক সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে তদন্তের ফলাফল এবং আইনানুগ বিচারপ্রক্রিয়ার ভিত্তিতে।