Home ত্রিপুরাত্রিপুরায় উন্নয়নের একাধিক প্রকল্পে ১৬৫.৫২ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা, পর্যটন ও কর্মসংস্থানে জোর মন্ত্রী সুধাংশু দাসের

ত্রিপুরায় উন্নয়নের একাধিক প্রকল্পে ১৬৫.৫২ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা, পর্যটন ও কর্মসংস্থানে জোর মন্ত্রী সুধাংশু দাসের

by Debasish
0 comments 1 views

আগরতলা, ১০ অক্টোবর: ত্রিপুরায় পরিকাঠামো উন্নয়ন, পর্যটন সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নে একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার। পশুসম্পদ বিকাশ, মৎস্য এবং তফশিলি জাতি কল্যাণ দপ্তরের অধীনে মোট ১৬৫.৫২ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কথা তুলে ধরলেন রাজ্যের মন্ত্রী সুধাংশু দাস। এর মধ্যে রয়েছে উনকোটি জেলার ফটিকরায় বিধানসভা কেন্দ্রের বিলাসপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় পেচার-দহর জলাশয়ের ১৪.৫২ কোটি টাকার পুনর্নির্মাণ প্রকল্প।

শনিবার পেচার-দহর প্রকল্পের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত বিভিন্ন এলাকাকে আধুনিক পরিকাঠামোর মাধ্যমে নতুনভাবে গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। পর্যটন, স্থানীয় মানুষের জীবিকা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

পেচার-দহরকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা

বিলাসপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের পেচার-দহর জলাশয়ের উন্নয়নে তফশিলি জাতি কল্যাণ দপ্তরের তরফে ১৪.৫২ কোটি টাকা অনুমোদন করা হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে জলাশয়টিকে একটি আকর্ষণীয় পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় তৈরি করা হবে সুসজ্জিত প্রবেশদ্বার, টিকিট কাউন্টার, ওপেন-এয়ার জিম, শিশু উদ্যান, প্রশাসনিক ভবন, পৃথক শৌচাগার, ঝুলন্ত সেতু, আর্ট গ্যালারি, বসার প্যাভিলিয়ন, সাংস্কৃতিক মঞ্চ এবং সুসজ্জিত হাঁটার পথ। পাশাপাশি থাকবে পথবাতি ও ব্যাপক বৃক্ষরোপণের ব্যবস্থা।

জলাশয়ে নৌকাবিহারের ব্যবস্থাও চালু করা হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের নৌকা পরিচালনার কাজে যুক্ত করে তাঁদের আয়ের সুযোগ তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। জলাশয়ের বাকি অংশ পরিষ্কার ও সংস্কার করে সারা বছর মাছ চাষের উপযোগী করে তোলা হবে। মৎস্যজীবীদেরও এই কাজে যুক্ত করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।

সুধাংশু দাস বলেন, বিলাসপুর এবং পেচারদর-বোলেহর এলাকার অন্তত ১৫০ থেকে ২০০টি পরিবারের জন্য স্থায়ী জীবিকার সুযোগ তৈরি করাই তাঁর অন্যতম লক্ষ্য। মৎস্যচাষের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে অন্তত ১০০টি পরিবারকে সহায়তা করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

উনকোটিতে পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা

পেচার-দহরকে পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার ফলে উনকোটি এবং কাছাকাছি সারদা সিংহী মঠ, যা বালাজি মন্দির বা তিরুপতি মন্দির নামেও পরিচিত, সেখানে আসা পর্যটকদের জন্য অতিরিক্ত আকর্ষণ তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী। মন্দিরটি প্রকল্প এলাকা থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে অবস্থিত।

প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার বিষয়ে আশাবাদী মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নির্মাণকাজ শেষ করতে প্রায় এক বছর থেকে এক বছর দুই মাস সময় লাগতে পারে। ২০২৮ সালের জানুয়ারির আগে এই পর্যটনকেন্দ্রের উদ্বোধন করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

রাজনগরে ৩৪ কোটি টাকার জলাশয় উন্নয়ন প্রকল্প

উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, রাজনগরের বাটিশা ডেপা এলাকায় ৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে জলাশয় উন্নয়ন প্রকল্পও বাস্তবায়ন করা হবে। দুর্গাপূজার পর এই প্রকল্পের শিলান্যাস করার পরিকল্পনা রয়েছে।

অন্যদিকে, দক্ষিণ ত্রিপুরার বীরচন্দ্রনগরে ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সমন্বিত অ্যাকোয়া পার্ক গড়ে তোলার জন্য অর্থ অনুমোদন করা হয়েছে। এই প্রকল্পের জন্য ইতিমধ্যেই ৪৩ কোটি টাকা পাওয়া গিয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে আশপাশের প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ জন মানুষ উপকৃত হতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে।

মহারাজগঞ্জ বাজারে আধুনিক বাজার, ফটিকরায়ে প্রশিক্ষণকেন্দ্র

আগরতলার মহারাজগঞ্জ বাজারে ৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক বাজার নির্মাণের প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করেন সুধাংশু দাস। পাশাপাশি ফটিকরায়ের কাছে ৮.৫ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রশিক্ষণকেন্দ্র তথা অতিথিশালা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রশিক্ষণকেন্দ্র ও অতিথিশালাটি জানুয়ারি মাসে উদ্বোধনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি জানান।

মৎস্যচাষ ও পশুপালনে আর্থিক সহায়তা

মন্ত্রী জানান, ২০২৩ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর তফশিলি জাতি কল্যাণ, মৎস্য এবং পশুসম্পদ বিকাশ দপ্তরের আধিকারিকদের জনসাধারণের সরাসরি উপকারে আসে, এমন প্রকল্প তৈরির নির্দেশ দিয়েছিলেন তিনি। সেই অনুযায়ী ২০২৩ সালের বাজেট অধিবেশনে অন্তত ১০টি নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এর মধ্যে রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী প্রাণীসম্পদ বিকাশ যোজনা। এই প্রকল্পে যোগ্য সুবিধাভোগীরা গবাদিপশুর ক্ষতির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পেতে পারেন। অন্যদিকে, মৎস্য সহায়তা যোজনার মাধ্যমে মৎস্যচাষিদের বছরে ৬ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

মন্ত্রী আরও জানান, গত বছর ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় ১১০ হেক্টর জলাশয় সংস্কার করা হয়েছে। চলতি বছরে আরও ১২০ থেকে ১৩০ হেক্টর জলাশয় সংস্কারের পরিকল্পনা রয়েছে। ডম্বুর জলাধার-সহ বিভিন্ন এলাকায় মোট ১,৫১২টি কেজ কালচার ইউনিটও স্থাপন করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তফশিলি জাতির আর্থসামাজিক উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ

তফশিলি জাতিভুক্ত মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রী তপশিলি জাতি বিকাশ যোজনার কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। এই প্রকল্পে যোগ্য সুবিধাভোগীদের ছোট ব্যবসা শুরু করা বা ব্যবসার পরিধি বাড়ানোর জন্য ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

চিকিৎসাবিদ্যা নিয়ে পড়াশোনা করা তফশিলি জাতিভুক্ত পড়ুয়াদের জন্যও একাধিক সহায়তার কথা জানান তিনি। এর মধ্যে রয়েছে বছরে সর্বোচ্চ ৪ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বৃত্তি, এককালীন ১ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তা এবং হস্টেল সংক্রান্ত অতিরিক্ত ১৩,৫০০ টাকার সহায়তা।

‘সরকারের লক্ষ্য সমাজের শেষ সারিতে থাকা মানুষের কাছে পৌঁছানো’

মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. মানিক সাহার নেতৃত্বে রাজ্য সরকারের মূল লক্ষ্য সমাজের শেষ সারিতে থাকা মানুষের কাছেও সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়া বলে মন্তব্য করেন সুধাংশু দাস। তাঁর কথায়, জনপ্রতিনিধিরা জনগণের শাসক নন, বরং সেবক।

তিনি বলেন, উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা, কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা তৃণমূল স্তরে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। পেচার-দহর-সহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আসবে এবং স্থানীয় মানুষের জীবিকায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।

You may also like

Leave a Comment