আগরতলা, ৪ অক্টোবর। বয়সের ভারে শরীর নুয়ে পড়েছে। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে সন্তানদের স্নেহ, নিরাপত্তা ও আশ্রয় পাওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু অভিযোগ, সেই বয়সেই নিজের সন্তানদের কাছ থেকে অবহেলা, নির্যাতন এবং সম্পত্তি দখলের চেষ্টার শিকার হতে হচ্ছে ১০৫ বছরের বৃদ্ধা রাধারাণী সরকারকে। শেষ পর্যন্ত ন্যায়বিচারের আশায় পুলিশের দ্বারস্থ হলেন সিমনার ব্রহ্মকুন্ড গ্রামের এই প্রবীণা।
পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিবাদকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বৃদ্ধার পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, তাঁর পাঁচ ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে অসুস্থ প্রভাস সরকার ছাড়া অন্য সন্তানরা মায়ের দেখভালের দায়িত্ব পালন করছেন না। বরং নারায়ণ সরকার, নিরঞ্জন সরকার ও রামপ্রসাদ সরকারের বিরুদ্ধে মায়ের বাড়িঘর ও জায়গা-সম্পত্তি নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা এবং শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, নিজের প্রয়োজনে জমি কিংবা বাড়ির বাঁশ বিক্রি করতে গেলেও বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে বৃদ্ধাকে। এমনকি স্থানীয় পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে নেওয়া সিদ্ধান্তও অভিযুক্তরা মানছেন না বলে দাবি পরিবারের।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, নিজের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় এক নাতিকে সঙ্গে নিয়ে সিমনার সুন্দরটিলা পুলিশ ফাঁড়িতে অভিযোগ জানাতে বাধ্য হয়েছেন রাধারাণী দেবী।
বৃদ্ধার নাতি উত্তম সরকারের দাবি, তাঁর কাকা নারায়ণ সরকারের নির্যাতনের কারণে ঠাকুমার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে। এমনকি বর্তমানে তিনি কানে শুনতেও পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন উত্তম।