আগরতলা, ২ অক্টোবর: ভিন্ন ভাষা, সংস্কৃতি ও আঞ্চলিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় ঐক্যের বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানালেন ত্রিপুরার রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেডি নাল্লু। তাঁর কথায়, ত্রিপুরার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলই ভারতের ‘বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য’ ভাবনার এক উজ্জ্বল প্রতিফলন।
শুক্রবার নরসিংগড়স্থিত ত্রিপুরা ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির এ.পি.জে. আবদুল কালাম অডিটোরিয়ামে বীর বিক্রম একতা ক্যাম্প এবং স্পেশাল ন্যাশনাল ইন্টিগ্রেশন ক্যাম্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রাজ্যপাল। ১৩ ত্রিপুরা ব্যাটালিয়ন এনসিসি-র উদ্যোগে আয়োজিত এই শিবিরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ১৭টি এনসিসি ডিরেক্টরেটের ক্যাডেটরা অংশগ্রহণ করছেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যপাল ত্রিপুরার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহাসিক ঐতিহ্য এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্প্রীতির কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য ত্রিপুরা তার আতিথেয়তা, সামাজিক বন্ধন ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের জন্য বিশেষ পরিচিত। এখানকার মন্দির, উৎসব এবং ঐতিহ্যের মধ্য দিয়ে ভারতের বহুত্ববাদী সংস্কৃতির প্রতিফলন ঘটে।
ক্যাডেটদের উদ্দেশে রাজ্যপালের বার্তা ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি বলেন, এনসিসি-র পোশাক কেবল একটি সংগঠনের সদস্য হওয়ার পরিচয় বহন করে না, বরং এটি দেশের আস্থার প্রতীক। আগামী দিনে দেশ যুবসমাজের হাতেই নেতৃত্ব, দায়িত্ব ও সুরক্ষার ভার তুলে দেবে। তাই সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষা করে চলার আহ্বান জানান তিনি।
শিবির শেষে নিজ নিজ রাজ্যে ফিরে গিয়ে বিদ্যালয়, কলেজ ও সামাজিক পরিসরে ঐক্য, শৃঙ্খলা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য ক্যাডেটদের প্রতি আহ্বান জানান রাজ্যপাল।
একইসঙ্গে দেশের অগ্রগতিতে তরুণ প্রজন্মের সক্রিয় অংশগ্রহণের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি। ডিজিটাল উদ্ভাবন, মহাকাশ গবেষণা, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং সামাজিক কল্যাণের মতো ক্ষেত্রে ভারতের অগ্রগতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ক্যাডেটদের বড় স্বপ্ন দেখার এবং জাতীয় উন্নয়নের অংশীদার হওয়ার পরামর্শ দেন।

১৩ ত্রিপুরা ব্যাটালিয়ন এনসিসি-র উদ্যোগের প্রশংসা করে রাজ্যপাল আশা প্রকাশ করেন, এই শিবিরের অভিজ্ঞতা অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে জাতীয় সংহতি, বন্ধুত্ব, শৃঙ্খলা ও সেবার মানসিকতাকে আরও শক্তিশালী করবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ২১ সেক্টর আসামের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার নিশাত চান্দেল, ১৩ ত্রিপুরা ব্যাটালিয়ন এনসিসি-র কমান্ডিং অফিসার এন. এস. ভাট, ভারতীয় সেনাবাহিনী ও আসাম রাইফেলসের আধিকারিক, এনসিসি-র বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক এবং ক্যাডেটরা।