গবেষণা, উদ্ভাবন ও কর্মমুখী শিক্ষায় জোর; একাধিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ৫টি MoU, বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে ১০ কোটি টাকা সহায়তার ঘোষণা
আগরতলা, ২ অক্টোবর: শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনকে ত্রিপুরার উন্নয়নের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করলেন মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. মানিক সাহা। শুক্রবার ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০তম প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, রাজ্যের ছাত্রছাত্রীদের জন্য আরও বেশি সুযোগ তৈরি করা এবং তরুণ প্রজন্মকে রাজ্য ও দেশের উন্নয়নে যুক্ত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
১৯৮৭ সালের ২ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয় ৪০ বছর পূর্ণ করে পঞ্চম দশকে প্রবেশ করল। এই নতুন পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও পরিকাঠামোগত সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে প্রায় ১,৫৮৯ কোটি টাকার একটি উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক দেবব্রত দাস জানান, উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, শিল্পক্ষেত্র এবং কর্মসংস্থানের মধ্যে আরও কার্যকর যোগসূত্র তৈরি করাই বিশ্ববিদ্যালয়ের আগামী দিনের অন্যতম লক্ষ্য। গত পাঁচ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা প্রায় ১,৫০০টি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছেন। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের ৭৫টি গবেষণাপত্র এবং ২৫টি পেটেন্টের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
পাঁচ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে MoU-এর উদ্যোগ
প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতার প্রস্তাব বিশেষ গুরুত্ব পায়। এর মধ্যে অসম বিশ্ববিদ্যালয়, শিলচর এবং দেবী অহল্যা বিশ্ববিদ্যালয়, ইন্দোর-এর সঙ্গে শিক্ষা ও গবেষণাক্ষেত্রে সহযোগিতার প্রস্তাব রয়েছে।

অন্য তিনটি প্রস্তাবিত MoU হচ্ছে আগরতলাভিত্তিক North East Financial Inclusion Trust (NEFIT), Institute of Cost Accountants of India এবং Pahle India Foundation-এর সঙ্গে। এই সহযোগিতার মাধ্যমে যৌথ শিক্ষা ও গবেষণা, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে আদান-প্রদান এবং শিল্প-শিক্ষা সংযোগ আরও জোরদার করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নমূলক কাজের জন্য ১০ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করেছেন Bandhan Group-এর চেয়ারম্যান চন্দ্রশেখর ঘোষ। ভবিষ্যতের প্রকল্পগুলিতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
কর্মমুখী শিক্ষায় বাড়তি গুরুত্ব
উপাচার্য অধ্যাপক দেবব্রত দাস জানান, আগামী দিনে গবেষণা, উদ্ভাবন এবং কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষার উপর আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। চাকরির বাজারের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার সমন্বয় ঘটানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
এছাড়া স্থানীয় মানুষের প্রয়োজনের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণাকে যুক্ত করতে ছয়টি গ্রামকে কমিউনিটি-কেন্দ্রিক উদ্যোগের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে।
প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় অ্যাকাডেমিক ভবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। শিক্ষক, আধিকারিক, কর্মী ও ছাত্রছাত্রীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। পাশাপাশি শিক্ষক, কর্মী ও কৃতী ছাত্রছাত্রীদের পুরস্কৃত করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর আহমেদ জাভেদ, অসম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক রাজীব মোহন পন্ত, দেবী অহল্যা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক রাকেশ সিংভি, উচ্চশিক্ষামন্ত্রী কিশোর বর্মন এবং Bandhan Group-এর চেয়ারম্যান চন্দ্রশেখর ঘোষ। ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. সমীর কুমার শীল ও ডিন অধ্যাপক সুখেন্দু দেববর্মাও উপস্থিত ছিলেন।

উচ্চশিক্ষামন্ত্রী কিশোর বর্মন বলেন, ৪০ বছর পূর্তি শুধুমাত্র একটি সংখ্যাগত মাইলফলক নয়। এই চার দশকে ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক ও গবেষকদের অবদানকে স্মরণ করার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের আগামী দিনের অগ্রাধিকারের দিক নির্ধারণেরও সময় এটি।
এর আগে গান্ধী জয়ন্তী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে আগরতলার সিটি সেন্টারেও একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে মহাত্মা গান্ধীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় এবং সত্য, অহিংসা, শান্তি ও সেবার আদর্শ স্মরণ করা হয়।
১,৫৮৯ কোটি টাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা, পাঁচটি প্রস্তাবিত MoU এবং ১০ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা—গবেষণা, উদ্ভাবন, কর্মসংস্থান, প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা ও সমাজমুখী উদ্যোগকে সামনে রেখে পঞ্চম দশকের পথচলার রূপরেখা তৈরি করেছে ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়।