বিশালগড়ে সড়ক নিরাপত্তা ও সচেতনতা কর্মসূচির উদ্বোধন, স্কুল-কলেজেও ধারাবাহিক প্রচারের ঘোষণা
আগরতলা, ২৫ সেপ্টেম্বর: সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে ট্রাফিক আইন মেনে চলার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে আরও বেশি সচেতনতা গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করলেন ত্রিপুরার পরিবহণমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
শুক্রবার বিশালগড়ের নিউ টাউন হলে সিপাহিজলা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত সড়ক নিরাপত্তা ও সচেতনতা কর্মসূচির উদ্বোধন করে একথা বলেন পরিবহণমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সুশান্ত চৌধুরী বলেন, ট্রাফিক আইন, পথ নিরাপত্তার নিয়ম এবং দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে। একইসঙ্গে দুর্ঘটনা বা বিপদের সময় সরকারিভাবে কী ধরনের সহায়তা পাওয়া যায়, সে বিষয়েও সাধারণ মানুষকে অবগত করার প্রয়োজন রয়েছে।
দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য ‘রাহ-বীর’ ও ‘পিএম রাহত’-এর মতো সরকারি উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। প্রয়োজনের সময় যাতে দুর্ঘটনাগ্রস্ত মানুষ ও তাঁদের পরিবার সরকারি সহায়তা পেতে পারেন, সেজন্য এই প্রকল্পগুলি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের জানাশোনা বাড়ানোর আহ্বান জানান মন্ত্রী।
পরিবহণমন্ত্রী বলেন, দুর্ঘটনা কিংবা অন্য কোনও জরুরি পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে প্রশাসনের পাশাপাশি নাগরিকদেরও সচেতন ও সক্রিয় হতে হবে।

এদিন বিশালগড় মোটর স্ট্যান্ডের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন ও পুনর্বিকাশের কথাও ঘোষণা করেন সুশান্ত চৌধুরী। জননিরাপত্তা ও সাধারণ মানুষের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই মোটর স্ট্যান্ডের উন্নয়ন করা হবে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, শুধুমাত্র একটি এলাকায় সীমাবদ্ধ না রেখে ত্রিপুরার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ধারাবাহিকভাবে সড়ক নিরাপত্তা ও সচেতনতা কর্মসূচি আয়োজন করা হবে। এর মাধ্যমে ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে দায়িত্বশীলভাবে গাড়ি চালানো এবং পথ নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতা আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিপাহিজলা জেলার জেলাশাসক ড. সিদ্ধার্থ শিব জয়সওয়াল, পুলিশের আইজি মাঞ্চক ইপ্পার, বিধায়ক সুশান্ত দেব, তফাজ্জল হোসেন ও অন্তরা সরকার দেব-সহ প্রশাসন ও পুলিশের অন্যান্য আধিকারিকরা।