আগরতলা, ২৫ সেপ্টেম্বর: সমাজের একেবারে প্রান্তিক মানুষের কাছে উন্নয়ন, প্রযুক্তি ও বিভিন্ন পরিষেবার সুযোগ পৌঁছে দেওয়ার বার্তা নিয়ে পালিত হলো অন্ত্যোদয় দিবস। পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে উঠে এল প্রযুক্তিকে মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত করার বার্তা।
এই ভাবনাকে সামনে রেখেই এদিন সূচনা হলো ‘Ekdunia Antyodaya Digital Mission’-এর। উদ্যোগটির লক্ষ্য শুধুমাত্র ডিজিটাল সংযোগ তৈরি করা নয়; বরং গ্রামীণ ও প্রান্তিক মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজনের সঙ্গে প্রযুক্তি ও পরিষেবাকে যুক্ত করে সেগুলিকে আরও সহজলভ্য করে তোলা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন YAS, SWE & SE দপ্তরের মন্ত্রী টিঙ্কু রায়, ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর (ড.) দেবব্রত দাস, পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা পরিষদের সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল, পশ্চিম ত্রিপুরার জেলা শাসক ও সমাহর্তা ড. বিশাল কুমার, IAS-সহ বিশিষ্ট অতিথিরা।
অনুষ্ঠানের অন্যতম উল্লেখযোগ্য পর্ব ছিল প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ‘AI Maa’ স্বেচ্ছাসেবিকাদের হাতে ট্যাবলেট তুলে দেওয়া। প্রত্যন্ত এলাকার বহু মানুষের কাছে এখনও ডিজিটাল পরিষেবা সহজে পৌঁছয় না। সেই দূরত্ব কমাতেই AI Maa-দের প্রযুক্তি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে মানবিক সেতু হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রশিক্ষণ ও ডিজিটাল সরঞ্জামে সজ্জিত AI Maa সদস্যরা গ্রামাঞ্চলের মানুষের কাছাকাছি থেকেই স্বাস্থ্য পরিষেবা, শিক্ষা, সরকারি পরিষেবা এবং বিভিন্ন ডিজিটাল পরিষেবা গ্রহণে সহায়তা করবেন। এর ফলে পরিষেবা পেতে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষকে বারবার দূরের শহর বা সরকারি দপ্তরে ছুটতে হবে না—প্রযুক্তির সহায়তায় পরিষেবা পৌঁছে যাবে তাঁদের দোরগোড়ায়।
Ekdunia Antyodaya Digital Mission-এর প্রতিষ্ঠাতা মলয় পীট বলেন, অন্ত্যোদয় মানে শুধু সমাজের শেষ মানুষের কাছে পৌঁছনো নয়, তাঁর পাশে দাঁড়ানো। প্রযুক্তি যেন মানুষের মধ্যে দূরত্ব তৈরি না করে, বরং সেই দূরত্ব কমিয়ে দেয়—এই লক্ষ্যেই AI Maa-দের মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলে ডিজিটাল সহায়তার পরিকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, গ্রামের একজন মা, প্রবীণ নাগরিক কিংবা একজন যুবক—প্রয়োজনের সময় যেন নিজের এলাকার কাছেই ডিজিটাল সহায়তা পান, সেটিই এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। শুধু ‘ডিজিটাল গ্রাম’ তৈরি নয়, মানুষের জীবনে সুযোগ, স্বস্তি ও মর্যাদা পৌঁছে দেওয়াই এই মিশনের লক্ষ্য।
একজন সাধারণ মানুষ যখন নিজের বাড়ির কাছাকাছি বসেই স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত তথ্য ও সহায়তা পান, সরকারি পরিষেবা পাওয়ার প্রক্রিয়া বুঝতে পারেন কিংবা ডিজিটাল মাধ্যমে নিজের প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করতে পারেন, তখন প্রযুক্তি আর কেবল একটি যন্ত্র থাকে না—তা হয়ে ওঠে সুযোগ ও স্বস্তির মাধ্যম।
মানুষের হাতে প্রযুক্তি, দোরগোড়ায় পরিষেবা এবং প্রতিটি মানুষের জীবনে মর্যাদা—এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই Ekdunia Antyodaya Digital Mission-এর পথচলা শুরু হলো।