টিএটিএএডিসির সব কেন্দ্রে CAPF, মনোনয়ন থেকে ভোটগ্রহণ—কড়া নিরাপত্তার দাবি
আগরতলা, ৫ সেপ্টেম্বর: আসন্ন ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনোমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (টিটিএএডিসি)-এর ভিলেজ কমিটি নির্বাচনকে সামনে রেখে সমস্ত নির্বাচনী এলাকায় কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (CAPF) মোতায়েনের দাবি জানাল বামফ্রন্ট। নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক হিংসা, বিরোধী প্রার্থী ও ভোটারদের নিরাপত্তা এবং ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় বিঘ্নের আশঙ্কা প্রকাশ করে শনিবার সিপিআই(এম) রাজ্য দফতরে সাংবাদিক সম্মেলন করে এই দাবি জানানো হয়।
সিপিআই(এম), সিপিআই, আরএসপি, ফরওয়ার্ড ব্লক এবং সিপিআই(এমএল) লিবারেশনের নেতারা সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। বামফ্রন্টের বক্তব্য, মনোনয়ন পর্ব থেকে শুরু করে ভোটগ্রহণ এবং ভোট গণনা পর্যন্ত বিরোধী প্রার্থী, পোলিং এজেন্ট ও সাধারণ ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
বামফ্রন্টের আহ্বায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী মানিক দে অভিযোগ করেন, নির্বাচনী কার্যক্রম চালাতে গিয়ে বাম প্রার্থীরা বিভিন্ন ধরনের বাধা ও হুমকির মুখে পড়ছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে ভোটের আগে রাজনৈতিক হিংসার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না বলে তিনি দাবি করেন।
এদিন রাজ্য নির্বাচন কমিশনের কাছে একটি স্মারকলিপিও জমা দেয় বামফ্রন্ট। সেখানে অভিযোগ করা হয়, বাম কর্মী, বিশেষ করে সিপিআই(এম) কর্মীদের উপর রাজনৈতিক হিংসার ঘটনা বেড়েছে। কয়েকটি ঘটনায় শাসকদলের সমর্থকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলেও দাবি করা হয়।
হেজামারা, লেফুঙ্গা, বেলবাড়ি ও জিরানিয়া ব্লকের প্রসঙ্গ তুলে বামফ্রন্টের অভিযোগ, মনোনয়নপত্র জমা দিতে যাওয়ার সময় বাম প্রার্থীদের ব্লক অফিসে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। হেজামারায় কয়েকজন প্রার্থীকে ব্লক অফিসের ভিতর থেকে পুলিশকে উদ্ধার করতে হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
মনোনয়ন জমা দেওয়ার জন্য সমস্ত ব্লক অফিসে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রার্থীরা যাতে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন, তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে বামফ্রন্ট।
পাশাপাশি বিজেপি ও তিপ্রা মথার সমর্থকদের মধ্যে সম্ভাব্য সংঘর্ষ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। রাজ্য সরকারের শরিক দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হলে টিটিএএডিসি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা বামফ্রন্টের।
বিরোধী দলের পোলিং এজেন্টদের নিরাপত্তার বিষয়টিও বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। অতীতের নির্বাচনে পোলিং এজেন্টদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেওয়া বা জোর করে বের করে দেওয়ার অভিযোগ তুলে তাঁদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়া এবং ভোটগ্রহণ শেষে ফিরে আসার পথে পুলিশি নিরাপত্তার দাবি জানানো হয়েছে।
বামফ্রন্টের প্রধান দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে—সমস্ত ভোটকেন্দ্রকে ‘অত্যন্ত স্পর্শকাতর’ হিসেবে ঘোষণা, ভোটের অন্তত এক সপ্তাহ আগে সিআরপিএফ মোতায়েন, প্রচার শেষ হওয়ার পর টিটিএএডিসি এলাকায় বহিরাগতদের প্রবেশে বিধিনিষেধ, ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের সময় পরিচয়পত্র যাচাই, ২৪ ঘণ্টা ওয়েবকাস্টিং ও ক্যামেরা নজরদারি এবং বিরোধী দলগুলির সভা, মিছিল ও প্রচার কর্মসূচিতে সমান নিরাপত্তা ও সুযোগ নিশ্চিত করা।
মানিক দে অতীতে ত্রিপুরায় ‘ভোট লুট’, প্রক্সি ভোট এবং প্রকৃত ভোটারদের ভোটদানে বাধা দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে বলেও অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি ভোটার ও প্রার্থীদের মধ্যে আস্থা বাড়াতে সহায়ক হবে।
তবে একইসঙ্গে নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতির পরিবেশে সম্পন্ন করার জন্য সমস্ত অংশের মানুষের কাছে আবেদন জানান মানিক দে। উপজাতি ও বাঙালি—উভয় সম্প্রদায়ের মানুষকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের পাশাপাশি ঐক্য, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।
টিটিএএডিসি এলাকার তৃণমূল স্তরের প্রশাসনে ভিলেজ কমিটি নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা গেলে স্বশাসিত পরিষদের প্রতিষ্ঠানগুলির প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাও আরও দৃঢ় হবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।