আগরতলা, ২১ আগস্ট: ত্রিপাক্ষিক চুক্তি বাস্তবায়নকে ঘিরে বিজেপি ও তার জোটসঙ্গী তিপ্রা মথার মধ্যে তৈরি হওয়া মতপার্থক্য মেটাতে ফের উদ্যোগী হল বিজেপি। আসন্ন এডিসি ভিলেজ কমিটি নির্বাচনের আগে শুক্রবার আগরতলায় দুই দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হতে চলেছে। এই বৈঠকের ফলাফলের ওপর অনেকটাই নির্ভর করছে দুই দলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমঝোতা এবং নির্বাচনী কৌশল।
সূত্রের খবর, বৈঠকে বিজেপির পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন বিদ্যুৎমন্ত্রী রতন লাল নাথ। তিপ্রা মথার পক্ষ থেকে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে মন্ত্রী বৃশকেতু দেববর্মা, বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা, পূর্ণচন্দ্র জমাতিয়া এবং ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনোমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিলের (TTAADC) চিফ এক্সিকিউটিভ মেম্বার রুনিয়েল দেববর্মার।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তিপ্রা মথার সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠতে রতন লাল নাথকে দায়িত্ব দিয়েছে। ত্রিপাক্ষিক চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে দুই দলের মধ্যে যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে, আলোচনার মাধ্যমে তার সমাধান খোঁজাই এই বৈঠকের অন্যতম লক্ষ্য। তিপ্রা মথার দলীয় সভাপতি প্রদ্যোৎ কিশোর দেববর্মার অনুমোদন নিয়েই দলের প্রতিনিধিরা বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার শিলংয়ে দলের নেতাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর তিপ্রা মথার সভাপতি প্রদ্যোৎ কিশোর দেববর্মা ফের দলের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তাঁর বক্তব্য, দলের নীতি—‘আগে চুক্তি, পরে জোট’। অর্থাৎ ত্রিপাক্ষিক চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে কেন্দ্রের কাছ থেকে লিখিত নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত বিজেপির সঙ্গে আসন সমঝোতা বা নির্বাচনী বোঝাপড়ায় যেতে রাজি নয় তিপ্রা মথা।
তিপ্রা মথার পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে, ত্রিপুরার জনজাতি ও আদিবাসী মানুষের স্বার্থ কোনওভাবেই রাজনৈতিক পদ বা অন্য কোনও রাজনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে আপস করা হবে না। চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে সমাধান না হলে আসন্ন ভিলেজ কমিটি নির্বাচনে তিপ্রা মথা একাই ৫৮৭টি আসনে প্রার্থী দিতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।
তবে বিজেপির সঙ্গে আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ করেনি তিপ্রা মথা। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দিল্লিতে আরও একটি বৈঠকের সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়েছে। যদিও প্রদ্যোৎ কিশোর দেববর্মা স্পষ্ট করে দিয়েছেন, বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক হলেই সেটিকে নির্বাচনী জোট বা আসন সমঝোতার সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা উচিত নয়।
এদিকে বৃহস্পতিবারই তিপ্রা মথার সঙ্গে সম্ভাব্য জোট নিয়ে বিজেপির অভ্যন্তরেও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। বিদ্যুৎমন্ত্রী রতন লাল নাথ এবং শ্রমমন্ত্রী টিঙ্কু রায় ওই বৈঠকে নেতৃত্ব দেন। উপস্থিত ছিলেন বিজেপি জনজাতি মোর্চার সহ-সভাপতি উত্তরা দেববর্মা, সাধারণ সম্পাদক বিপিন দেববর্মাসহ অন্যান্য নেতারা।
ত্রিপাক্ষিক চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে তিপ্রা মথার অনড় অবস্থান এবং বিজেপির জোট ধরে রাখার উদ্যোগ—দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় ঘটানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। শুক্রবারের বৈঠকে কোনও সমাধানসূত্র বেরিয়ে আসে কি না, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
আসন্ন এডিসি ভিলেজ কমিটি নির্বাচনে মোট ৫৮৭টি আসনকে ঘিরে দুই দলের অবস্থান আগামী দিনে ত্রিপুরার জনজাতি রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে শুক্রবারের এই বৈঠক শুধু তাৎক্ষণিক অচলাবস্থা কাটানোর চেষ্টা নয়, বিজেপি-তিপ্রা মথা জোটের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশের ক্ষেত্রেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।