আগরতলা, ৮ আগস্ট: সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও তৃণমূল স্তরে কার্যক্রমকে গতিশীল করার লক্ষ্যে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) উদ্যোগে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী আবাসিক প্রশিক্ষণ শিবির। পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় প্রশিক্ষণ মহাভিযানের অংশ হিসেবে রাজ্যের ১০টি রাজনৈতিক জেলায় পর্যায়ক্রমে এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মণ্ডল ও বুথ স্তরে সাংগঠনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর এবার জেলা স্তরে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। চলতি মাসের ৫ থেকে ১০ তারিখ পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন পর্যায়ে এই প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়া চলবে। এরই অংশ হিসেবে সদর শহর জেলায় ৮ থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী আবাসিক প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে।
এই শিবিরে মোট ১২১ জন বাছাই করা কার্যকর্তা অংশ নিয়েছেন। প্রশিক্ষণ চলাকালীন অংশগ্রহণকারী কার্যকর্তাদের আবাসিক ব্যবস্থায় রাখা হয়েছে। সাংগঠনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি দলীয় আদর্শ, কর্মীদের দায়িত্ব এবং সমাজের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার বিভিন্ন দিক নিয়ে তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
প্রশিক্ষণ শিবিরে মোট ১২টি সেশন রাখা হয়েছে। প্রথম দিনে পাঁচটি, দ্বিতীয় দিনে পাঁচটি এবং শেষ দিনে দুটি সেশনের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হবে। শিবিরের প্রথম সেশন পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হেমন্ত গোস্বামী বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য অনুযায়ী, এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্দেশ্য শুধু দলীয় নিয়মকানুন বা সাংগঠনিক পদ্ধতি সম্পর্কে কর্মীদের অবহিত করা নয়। বরং তাঁদের একজন আদর্শ, দক্ষ ও সমাজবান্ধব কার্যকর্তা হিসেবে গড়ে তোলাই এই প্রশিক্ষণের অন্যতম লক্ষ্য।
দলীয় নেতৃত্বের দাবি, ‘দেশ আগে, ব্যক্তি স্বার্থ সবার শেষে’—এই মূলনীতিকে সামনে রেখে কর্মীদের সামাজিক দায়বদ্ধতা সম্পর্কে সচেতন করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করার বিষয়েও প্রশিক্ষণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশ নেওয়া কার্যকর্তারা পরবর্তীতে তাঁদের অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা মণ্ডল, বুথ এবং একেবারে তৃণমূল স্তরের কর্মীদের মধ্যে পৌঁছে দেবেন বলে দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে। এর ফলে আগামী দিনে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত ও গতিশীল হবে বলে আশা করছে বিজেপি নেতৃত্ব।
আগামী ১০ আগস্ট পর্যন্ত সদর শহর জেলার এই আবাসিক প্রশিক্ষণ শিবির চলবে।
