আদিবাসী এলাকায় এনডিএ-র জয়ের সম্ভাবনা আরও জোরালো
আগরতলা, ৫ অক্টোবর: ত্রিপুরার ষষ্ঠ তফসিলভুক্ত এলাকায় ভিলেজ কমিটি নির্বাচনের গণনায় কার্যত ঝড় তুলেছে তিপ্রা মথা পার্টি। রাজ্য নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ঘোষিত ২,০৩৭টি আসনের মধ্যে একাই ১,৮১৪টি আসনে জয় পেয়েছে তিপ্রা মথা। এর ফলে উপজাতি এলাকায় এনডিএ-র বড় জয়ের সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, তিপ্রা মথার জয়ের পাশাপাশি বিজেপি পেয়েছে ১৮৪টি আসন। নির্দল প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন ২২টি আসনে। অন্যদিকে সিপিআই(এম) ৪টি এবং কংগ্রেস ৫টি আসনে জয় পেয়েছে।
রাজ্যজুড়ে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে এখনও ভোট গণনা চলছে। ষষ্ঠ তফসিলের আওতাধীন ৫৮৭টি ভিলেজ কমিটির মোট ৪,৫৯৭টি আসনের মধ্যে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে ২,৯৫০টি আসনে। বাকি ১,৬৪৪টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেয়েছে প্রার্থীরা। এর মধ্যে তিপ্রা মথা ১,৫৬৩টি এবং বিজেপি ৮১টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করে।
রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সচিব অনুরাগ সেন জানিয়েছেন, তিপ্রা মথার ১,৮১৪টি জয়ের মধ্যে ১,৫৬১টি আসনেই তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেয়েছিল।
এই ফলাফল সামনে আসতেই আদিবাসী এলাকায় বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা বলেন, প্রাথমিক ফলাফলের প্রবণতা থেকেই স্পষ্ট যে মানুষ এনডিএ-র প্রতি আস্থা রেখেছেন।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, “আমরা আত্মবিশ্বাসী যে ভিলেজ কমিটি নির্বাচনে এনডিএ বিপুল জয় পেতে চলেছে। এর ফলে রাজ্যের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে। বর্তমান সরকার সমতল ও পাহাড়—দুই এলাকাতেই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চায়।”
অন্যদিকে তিপ্রা মথার সুপ্রিমো প্রদ্যোত কিশোর মাণিক্য দেববর্মা ফলাফলকে তৃণমূল স্তরে মানুষের হাতে ক্ষমতা ফিরে আসার প্রতিফলন হিসেবে তুলে ধরেছেন। সামাজিক মাধ্যমে তিনি বলেন, “আজকের ফলাফল তৃণমূল স্তরের ক্ষমতা আবার মানুষের হাতে ফিরিয়ে দেবে।”
সাংবিধানিক অধিকার পুনরুদ্ধারের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে তাঁর দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রদ্যোত আরও বলেন, শেষ পর্যন্ত যে রাজনৈতিক দলই জয়ী হোক না কেন, এই ফলাফলের আসল বিজয়ী সাধারণ মানুষ। তাঁর কথায়, “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মানুষের জয় হয়েছে। এটাই তিপ্রাসাদের শক্তি।”