মনোনয়নপত্র যাচাই থেকে ভোট গণনা পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে নজর রাখবেন পর্যবেক্ষকরা। মোহনপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রার্থীদের বাধা দেওয়ার অভিযোগের পক্ষে রিটার্নিং অফিসারদের কাছ থেকে কোনও তথ্য মেলেনি বলে দাবি রাজ্য নির্বাচন কমিশনারের।
আগরতলা, ৬ নভেম্বর: ত্রিপুরার আসন্ন পুর ও নগর সংস্থার নির্বাচনকে অবাধ, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনিক তৎপরতা আরও বাড়াল রাজ্য নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য মোট ২৩ জন নির্বাচন পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিরোধী দলগুলির তরফে মনোনয়ন জমা দিতে বাধা দেওয়ার যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার প্রদীপ কুমার চক্রবর্তী।
শুক্রবার স্টেট গেস্ট হাউসে নিযুক্ত পর্যবেক্ষকদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে তাঁদের দায়িত্ব, কাজের পদ্ধতি এবং কমিশনের কাছে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত নির্দেশিকা দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে কমিশনার জানান, পর্যবেক্ষকরা নিজ নিজ নির্ধারিত এলাকায় পৌঁছে মনোনয়নপত্র যাচাইয়ের সময় উপস্থিত থাকবেন।
নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। মনোনয়নপত্র যাচাই, প্রার্থীপদ প্রত্যাহার, ভোটগ্রহণ এবং গণনা—প্রতিটি পর্যায়ে তাঁরা পরিস্থিতির উপর নজর রাখবেন এবং কমিশনের কাছে পর্যায়ক্রমে প্রায় পাঁচটি রিপোর্ট জমা দেবেন।
কমিশনারের কথায়, নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা কার্যত নির্বাচন কমিশনের চোখ ও কান হিসেবে কাজ করেন। তাঁদের প্রধান দায়িত্ব হলো নিরপেক্ষভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা এবং কোথাও নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন, অনিয়ম কিংবা হিংসাত্মক ঘটনার খবর পাওয়া গেলে তা কমিশনকে জানানো। তবে রিটার্নিং অফিসারদের সরাসরি নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা তাঁদের নেই। প্রয়োজন অনুযায়ী তাঁরা পরামর্শ দিতে পারবেন।
নিজ নিজ এলাকার সমস্ত ভোটকেন্দ্র পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি ভোট গণনার সময়ও তাঁরা উপস্থিত থাকবেন। কোনও কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের প্রয়োজন দেখা দিলে সেই বিষয়ে পর্যবেক্ষকদের মূল্যায়ন ও সুপারিশও বিবেচনা করবে কমিশন।
অন্যদিকে, ইভিএম ব্যবহার নিয়ে বিরোধীদের প্রশ্নের জবাবে কমিশনার স্পষ্ট করেন, প্রচলিত আইন ও বিধি মেনেই নির্বাচন পরিচালনা করা হচ্ছে। এই নির্বাচনে তৃতীয়বারের মতো ইভিএম ব্যবহার করা হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে কোনও নিয়ম বা আইনি নির্দেশিকা লঙ্ঘিত হচ্ছে না বলেও তিনি দাবি করেন।
মোহনপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বিরোধী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে কমিশনারের বক্তব্য, বিরোধীদের পক্ষ থেকে মৌখিক ও লিখিতভাবে অভিযোগ জানানো হয়েছে। এমনকি নির্বাচন কমিশনের দপ্তর ঘেরাও করেও প্রতিবাদ জানানো হয়েছিল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারদের কাছ থেকে এ ধরনের কোনও ঘটনার তথ্য পাওয়া যায়নি।
তিনি জানান, গত তিন-চার দিন ধরে রাজ্যের বিভিন্ন রিটার্নিং অফিসার এবং জেলা মিউনিসিপ্যাল ইলেকশন অফিসারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হয়েছে। কোথাও প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে কিংবা মনোনয়ন গ্রহণে কোনও সমস্যা তৈরি হয়েছে—এমন কোনও অভিযোগ সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা তাঁকে জানাননি।
কমিশনের নির্দেশে রিটার্নিং অফিসারদের দপ্তর এবং সেখানে যাতায়াতের রাস্তাগুলিতেও নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল বলে জানান তিনি। নিরাপত্তার কোনও ঘাটতি কিংবা বাহিনীর সদস্যদের অনিয়মের বিষয়ও সামনে আসেনি বলে দাবি করেন কমিশনার। রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশকও জানিয়েছেন, কাউকে মারধর করা হয়েছে অথবা রিটার্নিং অফিসারের দপ্তরে যেতে বাধা দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগে কোনও পুলিশি মামলা বা অভিযোগ দায়ের হয়নি।
সব রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দেওয়ার সমান সুযোগ ছিল এবং সেই সুযোগ নিশ্চিত করতে কমিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলে দাবি প্রদীপ কুমার চক্রবর্তীর। বিভিন্ন জেলা ও নির্বাচনী আধিকারিকদের কাছ থেকে পাওয়া রিপোর্টের ভিত্তিতেই বিরোধীদের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে মনে করছেন তিনি।