আমতলী থানায় অভিযোগ জানিয়েও মেলেনি সুরাহা, স্থানীয় নেতাদের চাপে পুলিশ নিষ্ক্রিয় ছিল বলে অভিযোগ। প্রাণভয়ে স্বামী-সন্তানদের নিয়ে বাড়িছাড়া শেফালী ভট্ট দত্ত।
আগরতলা, ৫ নভেম্বর : মারধর ও বাড়িঘর ভাঙচুরের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে থানায় অভিযোগ জানিয়েও পুলিশের কাছ থেকে কোনও সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন শেফালী ভট্ট দত্ত। তাঁর অভিযোগ, আদালতের নির্দেশের পর অবশেষে আমতলী থানার পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা নথিভুক্ত করেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, এক সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ঝুটন ভট্টের নেতৃত্বে অঞ্জলি ভট্ট দেব, মীনাক্ষী ভট্ট এবং শেফালী ভট্ট দত্তের বাড়িতে প্রবেশ করে তাঁকে মারধর করা হয়। একই সঙ্গে বাড়িঘর ভাঙচুরেরও অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় আমতলী থানায় তিন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন শেফালী। কিন্তু এলাকার কয়েকজন স্থানীয় নেতার প্রভাবে পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা নিতে গড়িমসি করে বলে অভিযোগ তাঁর।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে হতাশ হয়ে শেষ পর্যন্ত বিচার চেয়ে আদালতের শরণাপন্ন হন তিনি। তাঁর আরও দাবি, অভিযুক্তদের ভয়ে নিজের স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটছে তাঁদের পরিবারের।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সংবাদমাধ্যমের সামনে হাজির হয়ে গোটা ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন শেফালী ভট্ট দত্ত। একই সঙ্গে পুলিশ প্রশাসনের কাছে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
এখন দেখার বিষয়, আদালতের নির্দেশে মামলা নথিভুক্ত হওয়ার পর পুলিশ কত দ্রুত তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যায় এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে। পাশাপাশি বাড়িছাড়া পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন কী ব্যবস্থা নেয়, সেদিকেও তাকিয়ে রয়েছেন তাঁরা।