হামলার ঘটনায় ইতিমধ্যে ৯ জন গ্রেপ্তার, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে চলছে কঠোর পদক্ষেপ। অভিযুক্তদের নাগরিকত্ব ও পরিচয় খতিয়ে দেখারও দাবি মন্ত্রীর।
আগরতলা, ৪ নভেম্বর: সিপাহীজলা জেলার বক্সনগরের হর্ষবাড়িতে বিএসএফ জওয়ানদের উপর হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন রাজ্যের প্রাণিসম্পদ বিকাশ, মৎস্য ও তপশিলি জাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী সুধাংশু দাস। গত ২ নভেম্বর কর্তব্যরত সীমান্তরক্ষী বাহিনীর জওয়ানদের উপর এই হামলাকে আইনশৃঙ্খলা ও দেশের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি বলে আখ্যায়িত করেন তিনি। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান মন্ত্রী।
মন্ত্রী জানান, এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডা. মানিক সাহা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। দোষীদের কোনওভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে সুধাংশু দাস জানান, সীমান্ত দিয়ে নিষিদ্ধ সামগ্রী ও মাদক পাচারের চেষ্টা রুখতে গিয়েছিলেন বিএসএফ জওয়ানরা। সেই সময় পাচারের সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন একটি গোষ্ঠী প্রথমে লোকজন জড়ো করে। পরবর্তীতে উত্তেজিত জনতা বিএসএফ জওয়ানদের লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছুড়তে শুরু করে। শুধু তাই নয়, বাঁশ ও অন্যান্য সামগ্রী দিয়েও তাঁদের উপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ঘটনার ভিডিও নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ভিডিওতে এক হামলাকারীকে বিএসএফ জওয়ানের অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে দেখা গিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ধরনের ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়, অমানবিক এবং দেশের নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ঘটনার পর দ্রুত পুলিশি তৎপরতার প্রশংসা করেন সুধাংশু দাস। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের ভূমিকারও তিনি প্রশংসা করেন। পাশাপাশি, এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের পরিচয় ও নাগরিকত্ব যথাযথভাবে যাচাই করার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানান। অভিযুক্তরা ভারতীয় নাগরিক, নাকি অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ করেছে, সেই বিষয়টিও তদন্ত করে দেখার আহ্বান জানান তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, নিরাপত্তারক্ষীরা যখন দেশের সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব পালন করছেন, তখন তাঁদের উপর এমন সংগঠিত হামলা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকেই রেয়াত করা উচিত নয়। প্রত্যেক অভিযুক্তকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
বক্সনগরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্ত নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজ্য সরকার দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মন্ত্রী সুধাংশু দাস।