আগরতলা পুর নিগমের বাকি ২৫টি আসনেও মনোনয়ন জমা সিপিআইএম প্রার্থীদের। জোটের সমঝোতা হলে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ইঙ্গিত জিতেন্দ্র চৌধুরীর।
আগরতলা, ৪ নভেম্বর: আসন্ন আগরতলা পুর নিগম নির্বাচনে বিজেপিকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভের সুযোগ দিতে নারাজ বামফ্রন্ট। বিরোধী ভোটের বিভাজন এড়িয়ে শাসক দলকে নির্বাচনী লড়াইয়ে চ্যালেঞ্জ জানাতে এবার পুর নিগমের বাকি ২৫টি ওয়ার্ডেও প্রার্থী দিয়ে মনোনয়নপত্র জমা করাল সিপিআইএম। বুধবার মনোনীত প্রার্থীরা সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের কাছে নিজেদের মনোনয়নপত্র জমা দেন।
এই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক তথা বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী জানান, কংগ্রেসের সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা এখনও শেষ হয়নি। মঙ্গলবার ও বুধবার প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশিস কুমার সাহার সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। পাশাপাশি বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মণের সঙ্গেও কথা হয়েছে বলে জানান তিনি।
জিতেন্দ্র চৌধুরীর বক্তব্য, দুটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে নির্বাচনী সমঝোতা করতে গেলে মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। আসন বণ্টন নিয়েও উভয় পক্ষের নিজস্ব দাবি ও প্রত্যাশা থাকতে পারে। কংগ্রেসের জন্য বামফ্রন্ট যে কয়েকটি আসন ছেড়ে রাখার পরিকল্পনা করেছিল, সেখানে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মনোনয়ন জমা না পড়লে বিজেপি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হওয়ার সুযোগ পেতে পারে। সেই আশঙ্কা থেকেই কোনও ওয়ার্ড খালি না রেখে সব আসনে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, কংগ্রেসের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা চূড়ান্ত হলে প্রয়োজন অনুযায়ী বামফ্রন্টের প্রার্থীরা মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ১০ নভেম্বর হওয়ায় এখনও আলোচনার জন্য সময় রয়েছে। তাই আগাম প্রস্তুতি হিসেবেই সব ওয়ার্ডে মনোনয়ন জমা রাখা হয়েছে।
এদিকে বিজেপির প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর শাসক দলের অন্দরেও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন বিরোধী দলনেতা। মঙ্গলবার রাতে বিজেপির প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর বিভিন্ন ওয়ার্ডে দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আসন্ন নির্বাচনে বিজেপিকে পরাজিত করতে সমস্ত অবিজেপি রাজনৈতিক শক্তিকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানান জিতেন্দ্র চৌধুরী। তাঁর বক্তব্য, বৃহত্তর রাজনৈতিক স্বার্থে বিজেপিকে হারাতে বামফ্রন্ট প্রয়োজনে এক-দুই কদম পিছিয়ে আসতেও প্রস্তুত। তবে বিরোধী ঐক্য গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সমঝোতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে আগরতলা পুর নিগম নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাম-কংগ্রেসের আসন সমঝোতার আলোচনা এখনও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে রয়েছে। ১০ নভেম্বরের আগে দুই দলের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতা হয় কি না, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।